সম্পাদকীয়

ভারতবর্ষ এক মহান গণতান্ত্রিক দেশ। সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে এখানে সরকার নির্বাচিত হয়। বিগত ৭৫ বছর ধরে এর কোনো অন্যথা হয়নি। স্খলন শুধু একবারই হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেবার ইন্দিরা গান্ধী ভারতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। সেকারণে তাকে কঠিন মাসুল গুণতে হয়েছিল। সাধারণ মানুষ এত ক্ষিপ্ত ছিল যে ১৯৭৭ এর সাধারণ নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ১৩৯টি আসনের মধ্যে একটিও ইন্দিরা কংগ্রেস পায় নি। ইন্দিরা গান্ধীকে সেবার ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছিল। সেদিন প্রমানিত হয়েছিল, ভারতের গণতন্ত্র কতখানি মজবুত ও শক্তিশালী।

দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব ও চেতনার বিকাশে পিছিয়ে পড়ার জন্য ভারতীয় গণতন্ত্র শৈশব অবস্থার মধ্যে রয়ে গিয়েছে। ভীতি প্রদর্শন, মারামারি, ভাঙচুর, বন্দুক, পিস্তল, বোমা, লাঠির আস্ফালন ছাড়া এখানে কোনো ভোট নিষ্পন্ন হয় না। এই প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুতীব্র ইচ্ছাই ভারতীয় গণতন্ত্রকে সজীব, সচল রেখেছে। সে কারণেই উন্নত দেশের তুলনায় ভারতে ভোটদানের হার বেশি। এই বেশিটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের গরিমা বহন করে।

অতি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে শাসক দল বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে। বিজয় নিশ্চিত জেনে দুপুরের পর পানিঘাটা ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে বিজয়োল্লাসের মিছিল বেরিয়ে পড়ে। এই উল্লাসে ব্যক্তিশত্রুতা চরিতার্থ করা হবে না বা বোমা পড়বে না, তাকি হয়? কে শুনছে, "বদলা নয়, বদল চাই"? রাজনীতি হবে, রক্তপাত হবে না, এটা বিশেষকরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় বেমানান। কেশপুর, গড়বেতা, খানাকুল, ডোমকল, বাসন্তী, নানুরের মতো খবরের শিরোনামে থাকে কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রাম। যথারীতি বোমাবাজি হয়েছে, এতে দশ বছরের ফুটফুটে বালিকা তমান্না খাতুন নিহত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতেই মা-বাবার কোল খালি করে অকালে ঝরে গেল একটি প্রাণ।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে। এই বিনাশকারী রাজনীতির কোনো ব্যত্যয় হবে কিনা, আজ আর কারো জানা নেই।


১৫ জুন, ২০২৫