সম্পাদকীয়

সময়ের দাবি

তখন বাতাসে বারুদের গন্ধ। সারা ভারত জুড়ে অস্থিরতা, বিশেষকরে বামদুর্গ পশ্চিমবঙ্গে। কিউবার বিপ্লব নিয়ে লেখা সাড়া জাগানো বই 'আখের স্বাদ নোনতা'য় আলোড়িত যুবমন। সদ্য শেষ হওয়া ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধি আন্দোলনের রেশ তখনও কাটেনি। ভিয়েতনামের বুকে আগ্রাসী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন আক্রমণের বিরুদ্ধে কোলকাতার রাজপথ জুড়ে দৃপ্ত মানুষের মিছিল, কণ্ঠে সুতীব্র উচ্চারণ, 'তোমার নাম, আমার নাম, ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম'। এই পটভূমিতে ১৯৬৬'র খাদ্য আন্দোলন। নুরুল ইসলাম, আনন্দ হাইতের রক্তে স্নাত পশ্চিমবঙ্গ। সত্যজিৎ রায়ের আহ্বানে মহানগরীর বুকে আয়োজিত মৌন মিছিলে লক্ষ মানুষের ঢল। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠের ডাক - 'রাস্তাই একমাত্র রাস্তা।' সেই সময়ে যুবমানসে একটা কথাই আছড়ে পড়েছিল, 'আমি বামপন্থী, আমি বিপ্লবী। বিপ্লব স্পন্দিত বুকে আমিই লেনিন, যেখানে পূর্ণিমার চাঁদ ছিল ঝলসানো রুটি।' সেটা ছিল সময়ের দাবি।

পরবর্তী দিক নির্দেশক ছিল নক্সালবাড়ি কৃষক আন্দোলন, হাতে আইন তুলে নেওয়ার আন্দোলন। স্লোগান উঠল, 'বন্দুকই ক্ষমতার উৎস।' ফলশ্রুতিতে নতুন দলের উদ্ভব(সিপিআই-এম এল)। 'সত্তরের দশক মুক্তির দশক' এই স্লোগানে সশস্ত্র বিপ্লবের ডাক, দলের অন্তর্হিত হয়ে যাওয়া, ব্যক্তি হত্যা, শাসকের ওপর আক্রমণ, অজস্র ধারায় রক্তপাত, চারু মজুমদার সহ কয়েকশো মানুষের মৃত্যুর বিনিময়ে এই আন্দোলনের ইতি। ততদিনে প্রকাশ্যে রাজনীতি করা মার্ক্সবাদী দলগুলি গণতন্ত্রই শেষ কথা মনে করে বিপ্লবকে তাকে তুলে রেখেছে। সেটাও ছিল সময়ের দাবি।

বস্তুত মানুষ শান্তি চায়। শান্তির চেয়ে মূল্যবান বস্তু পৃথিবীতে আর কিছু নেই। প্রকৃত শিক্ষাই মানুষকে শান্তির পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। শিক্ষার মাধ্যম ইংরিজি হলে জীবন জীবিকার প্রশ্নে যেমন বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে এই ভাষা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। এক কথায় ইংরিজি ভাষা বিশ্বনাগরিক হতে সহায়তা করে। তাই পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অন্য রাজ্যের বাঙালি, এমনকি বাংলাদেশের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী ইংরিজি ভাষার মাধ্যমে পড়াশোনা করে। ফলত বাংলা ভাষার ওপর দখল বা লেখার ক্ষমতা নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের তুলনামূলকভাবে কমে যাচ্ছে। এটাও আজকের সময়ের দাবি।

এই সময়ের দাবিকে মাথায় রেখে সমন্বয় মাসিক ই-পত্রিকা নব প্রজন্মের লেখকদের কাছ থেকে সাহিত্যগুণ সম্পন্ন ইংরিজি লেখা আহ্বান করছে, যা পরবর্তীকালে পত্রিকায় সানন্দে প্রকাশ করবে। পত্রিকার এই সরণকে আশা করি পাঠকেরা সময়ের দাবি মনে করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।


১৫ আগস্ট, ২০২৫