সম্পাদকীয়

"এ পৃথিবী একবার পায় তারে,
পায়নাকো আর।
"

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য অন্য এক পৃথিবীতে বাস করে। সেই পৃথিবীতে বাস করে চিরবিপ্লবীরা। যখন তখন আন্দোলন, মিছিল, ভিসি ঘেরাও, হাল্লা বোল চীৎকারে শহরের রাজপথ সদাই সচকিত হয়ে থাকে। এদের আন্দোলনের অভিমুখ সর্বদা সুনির্দিষ্ট স্বার্থ-ভিত্তিক, সুনির্দিষ্ট ইস্যু-স্পেসিফিক। এখন এরা গভীর নিদ্রায় শায়িত।

কিছুদিন আগে বিপ্লবীরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুকে ভালোবাসার পাঠ দিচ্ছিল, স্বপ্নদীপ চীৎকার করে মা'কে বলছিল - "আমি এখানে থাকলে বাঁচবো না, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও"। দাদারা চড় মেরে মোবাইল কেড়ে বলেছিল, "বাড়িতে বল, ভালো আছিস।" স্বপ্নদীপ তবু বলেছিল, "আমাকে এখান থেকে না নিয়ে গেলে আমি আর বাঁচবো না"। বিপ্লবীদের এত ভালোবাসা সহ্য করতে পারেনি স্বপ্নদীপ, তাই অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। তখন কোনো হাল্লা বোল হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরিজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্বাভাবিক মৃত্যু হলো। মা-বাবার কোল খালি হয়ে গেল। আশ্চর্য কোনো অভিযোগ নেই, কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো হাল্লা বোল নেই! কারণ দাদারা এখন ঘুমোচ্ছে।

গত শুক্রবার আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী অনিন্দিতা সোরেনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত মালদহ মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র উজ্জ্বল সোরেন।

আর. জি. কর ও মালদহ মেডিক্যাল কলেজের বিপ্লবী জুনিয়র ডাক্তাররা আজ কে জানে কেন, কি রকম নিশ্চুপ! কেন জানি এদের সংবেদনশীলতা আজ তলানিতে এসে ঠেকেছে! ভিক্টিমরা পিছড়ে বর্গের বলে? দলিত বলে? আদিবাসী বলে? না, অভিযুক্ত ডাক্তার বলে?

বুঝলাম, যাদবপুরের বিপ্লবীরা এখন কপট নিদ্রায় আচ্ছন্ন। এ বিষয়ে গোঁসাইদা, সরকার সাহেব, সেরার সেরা বাঙালি বা আমজনতা কী বলেন?

আজ তাই আমাদের অতি প্রিয় কবিকে স্মরণ করে বলি -

"অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই - প্রীতি নেই - করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
"


১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫