সম্পাদকীয়

ভারতের আগামী দশকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নেতৃত্বের সম্ভাবনা নতুনভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের বৃহত্তম কর্মক্ষম জনসংখ্যা, দ্রুত বাড়তে থাকা উৎপাদন বাজার, প্রযুক্তি বিপ্লব এবং শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো মিলিয়ে ভারত এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা বিশ্ব অর্থনীতির পক্ষে আজ অসম্ভব। চীনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও উৎপাদন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের ফলে বহু দেশ আজ নতুন নির্ভরযোগ্য সরবরাহচক্র খুঁজছে, আর ভারত তার জন্য সবচেয়ে উপযোগী বিকল্প হয়ে উঠছে। শিল্পপার্ক, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও লজিস্টিক উন্নয়ন ভারতকে আগামী দশকে গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। পাশাপাশি ইউপিআই এর মতো উদ্ভাবনী ডিজিটাল ব্যবস্থা বিশ্বের কাছে ভারতীয় ডিজিটাল নীতির শক্তি ও ক্ষমতার দিক নির্দেশ করছে। এই সব মিলিয়ে ভারত শুধু অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তিনীতিরও এক প্রধান স্থপতি হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে নতুন সড়ক, রেল, বন্দর, বিমানবন্দর ও ব্যবসাবান্ধব নীতির ফলে বিদেশি বিনিয়োগে স্থায়ী বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে ভারত বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে। এই সামগ্রিক শক্তি তখনই সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলবে যখন ভারত শিক্ষা, দক্ষতা, নারীশক্তির অংশগ্রহণ ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক উন্নতি বজায় রাখতে পারবে। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া অর্থনৈতিক মানচিত্রে ভারত আগামী দশকে এক অপরিহার্য শক্তি—যার সিদ্ধান্ত, উদ্ভাবন ও বাজার ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

এই প্রেক্ষাপটে আমরা কেউ হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন না, আমরা ভারতীয়। আমরা উচ্চবর্ণ, অন্ত্যজ, তফসিলি জাতি, উপজাতি, ক্ষত্রিয়, দলিত, পিছড়ে বর্গ না, আমরা ভারতীয়। বিভেদ বিসর্জন দিয়ে আমরা ভারতীয় হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের প্রগতি ও উন্নয়নের জন্য প্রাণপাত পরিশ্রম করব, এটাই আজকের দিনে গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষের একমাত্র অভীষ্ট লক্ষ্য। কবির ভাষায় বলি -
"বল বল বল সবে
শত বীণা বেণুরবে
ভারত আবার জগতসভায়
শ্রেষ্ঠ আসন লবে...
"


১৫ নভেম্বর, ২০২৫