কবিতা

ছায়াবাজি



অভিজিৎ রায়


নীরব আলোর ছায়া নিজে
চুপিসারে নিজেকেই ডাকে;
মুখর আলোর ছায়া কী যে
গোপন মুঠোয় ধরে রাখে -
সে কথা বোঝার আগে পরে
ছায়া নিয়ে ছায়াবাজি চলে;
এত কাজ, তবু অবসরে
আগুন লেগেছে নদী জলে!

জ্বলে আলো অন্ধকার ঘিরে,
জ্বলে নেভে নিজের নিয়মে;
কে কে তাকে ডাকে ফিরে ফিরে?
ছায়া খোঁজে আগুনের ওমে!
সে নিজেকে খোঁজার তাগিদে
নিজেকে হারায় বার বার;
ছায়া জানে, খুব সাদাসিধে
সে কতটা আলো, অন্ধকার!

এসব কথার কথা নয়;
কথাদের আলো, অন্ধকার
জীবনের অপার সঞ্চয়
কখনও ছায়ার সংসার।
এ জীবনে যত তোলপাড়,
এ আলোর যত নীরবতা,
সবটুকু হারিয়েছি আর
হারিয়েছি ছায়ার সততা।

অর্থহীন এতো এতো আলো
চোখে নিয়ে দূরগামী পথে
হেঁটে যাই, দেখি কিছু কালো
ছায়া এসে ভিড় করে ক্ষতে।
প্রলেপের গায়ে হাত রাখে
কিছু ছায়া, ছায়ার আদর
ক্ষতের সে শোক ভুলে থাকে,
ভুলে যায় কে আপন, পর।
ছায়ার শরীরে ক্ষত দাগ
আলো দিয়ে চেনা ব্যর্থ হলে
পৃথিবীর প্রিয় অনুরাগ
অভিমানে, ক্ষোভে শুধু জ্বলে।

দহন কি ছায়া খুঁজে মরে?
ছায়া খোঁজে আলোর আড়ালে?
মুখর পৃথিবী অবসরে
নিজেকে হারায় সমকালে।
যে আলোর প্রিয় নীরবতা,
যে আলোর ছায়া খুব দামি
সে আলোই লেখে রূপকথা,
তার ছায়া ভবিষ্যতগামী।

এসব ছায়ার পরিচয়ে
আলো হয় বিশাল, মহান;
কিছু আলো এ ছায়ার ভয়ে
দূর থেকে হারায় সম্মান।
সব ছায়া অন্ধকার নয়,
কিছু ছায়া আলোর প্রণেতা;
স্বপ্ন জুড়ে অক্ষরেখা জয়,
স্বপ্ন বেচে আলোর বিক্রেতা।

অথচ ছায়ার বেচাকেনা
করবার লোকজন কম;
জীবনের এই লেনাদেনা
কভি খুশি অওর কভি গম।