গল্প ও অণুগল্প

নিখোঁজ কবির ডায়েরি (অষ্টম পর্ব) [ধারাবাহিক উপন্যাস]



অভিজিৎ রায়


[একজন সৃষ্টিশীল মানুষ একদিন স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। প্রাত্যহিক জীবনের দ্বিধা দ্বন্দ্বে জীর্ণ জীবনকে এক নতুন রসের ধারায় নিজেকে সিক্ত করতে তার এই স্বেচ্ছানির্বাসন নাকি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে তা তিনি নিজেও জানেন না। অথচ তার এই নির্বাসনকালে তার জীবন ও লেখা বাঁক নেয় এক নতুন পথে। নিজের সৃষ্টিকে নতুন করে তিনি কি গ্রহণ করতে পারবেন নাকি বিসর্জন দেবেন অবসাদের গভীর অন্ধকারে? এই টানাপোড়েন নিয়েই লেখা অভিজিৎ রায়ের এই নতুন উপন্যাস "নিখোঁজ কবির ডায়েরি"।]

(আট)

মর্নিংওয়াকে সৃজিত একটু অন্যদিকে হাঁটা দিল আজ। কুয়াশা আর ঠাণ্ডা আজ দুটোই অপেক্ষাকৃত কম। আকাশে মেঘ করে আছে। রাতে অল্পবিস্তর বৃষ্টি যে হয়েছে তা রাস্তার দু'পাশে হালকা জমা জল জানান দিচ্ছে। হোম-স্টে থেকে একটু এগিয়ে বাঁ দিকে গেলে জয়ন্তী নদী আর ডানদিকে গেলে জঙ্গলে প্রবেশের মূল গেট। যদিও সেটা এখান থেকে অনেক দূরে। একটু হাঁটতেই বাঁ-দিকে একটা বড় চায়ের দোকান চোখে পড়ল। উনুনের ধোঁয়াটা ক্রমশ হালকা হবার দিকে। দোকানি ভদ্রলোক দোকানের সামনেটা ঝাঁট দিতে ব্যস্ত।

-'চা হবে নাকি এখন?' সৃজিত জিজ্ঞেস করল।

-'একটু দেরি আছে বাবু। মিনিট পনেরো। আমি ওদিকটা ঘুরে আসুন। ততক্ষণে হয়ে যাবে।'

গায়ের চাদরটা ঠিকমতো জড়িয়ে নিয়ে পাঞ্জাবির পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে দোকানিকে বলে, 'আগুন হবে?'

দোকানদার তার পকেট থেকে একখানা লাইটার বের করে দেয়। সিগারেটটা ধরিয়ে লাইটার ফেরত দিয়ে সৃজিত হাঁটতে থাকে। এদিকটায় বিশেষ কিছু নেই। তবে প্রকৃতি মানুষেরই মতো। জায়গা বদলালে তার রূপ বদলায়। চরিত্র বদলায়। এই যে এখানে এসে সৃজিত যতটা শান্ত, যতটা আস্তে আস্তে কথা বলছে এটা সে কোনোদিনই কলকাতায় করতে পারে না। বাড়িতে না, অফিসেও না। অল্পতেই খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে ভিতরে ভিতরে আর তারপর তার গলার স্বর বাড়তে থাকে, কর্কশ হতে থাকে। অঞ্জনা কতবার বিরক্তি প্রকাশ করেছে, ডিভোর্সের ভয় দেখিয়েছে তবু সৃজিত বদলাতে পারেনি। অথচ এখানে আসার পর কতবার তার ভিতরে কতরকমের ঝড় বয়ে গেছে কিন্তু এখানে সে অনেক শান্ত। অনেকদিন আগে সপরিবারে পণ্ডিচেরী গিয়েছিল সৃজিত। সেখানে আশ্রমের গেস্ট হাউসগুলোতে একটা করে মেডিটেশন-রুম ছিল। সময় পেলেই সেখানে গিয়ে বসে থাকত সৃজিত। আর কী অদ্ভুত ব্যাপার! কলকাতায় ফেরার পরও মাসখানেক সৃজিত খুব শান্ত ছিল। তার গলার স্বর কিছুতেই কর্কশ হয়নি উত্তেজনায়। খুব শান্তভাবে সকলকে সব কথা বোঝাতে পারছিল। এরকম অবকাশ বারবার ক্রয়ের সুযোগ কম। উচ্চবিত্ত তো তারা নয়! অথচ অনেকসময়ই নিজের ক্ষমতার বাইরে জীবনযাত্রার মান নিয়ে যেতে গিয়ে প্রচুর বিভ্রাট হয়েছে। সে সবের মাশুল গুনতে হচ্ছে এখনও। অঞ্জনা এসব বোঝে না। ওর সহজ-সরল হিসাবে যে সংসার চলে না তা বোঝাতে অক্ষম সৃজিত। এককথা, দু'কথার পর দু'জনের মধ্যে ম্যায়-ম্যায়, তু-তু। ব্যাস, তারপর দু'চারদিন কথা বন্ধ। নিজেকে তখন সৃজিতের খুব অসহায় লাগে। একজন ব্যর্থ পুরুষ বলে নিজেকে দাগিয়ে দেয় সে। নিজেকে নিজের থেকেও দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্ধকারে খোঁজ করে নিজের ভুল। সব কথা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তো নয়ই। অঞ্জনা সব কথা মেনে নিতে পারে না। সবরকমের টেনশন নেবার ক্ষমতা ওর নেই। মাঝেমধ্যেই নার্ভ ফেল করে। তখন আরেক অশান্তি। সৃজিত নিজেকে নিজের ভিতরে গুটিয়ে নেয়। তার ক্ষোভ, অভিমান থাকা কিছুতেই উচিত নয়। নিজেকে সে এভাবেই বোঝাতে থাকে। এই যেদ্বন্দু, নিজের সঙ্গে নিজের, এতে যে ক্ষয় প্রতিদিন হচ্ছে সৃজিতের শরীরে, মনে তার কোনো হিসাব রাখতেও অক্ষম সে। তবে বুঝতে পারে জীবন ক্রমশ ভারি হয়ে উঠছে। বাঁচার ইচ্ছে ক্রমশ চলে যাচ্ছে। কিন্তু অঞ্জনার ভাষায়, 'কাপুরুষেরা কোনোদিন আত্মহত্যা করতে পারে না। ওসব ভয় আমাকে দেখিও না।' মাঝেমধ্যে সৃজিতের মনে হয় সে সত্যিই কাপুরুষ। বাড়িতে হরেকরকমের স্লিপিং পিল আছে। কিন্তু এত ঝামেলার পরও কোনোদিন তার মনে হয়নি বা সাহস হয়নি সেগুলো খেয়ে জীবন থেকে বিদায় নেবার। কেন? সেকি শুধুমাত্র কাপুরুষ বলে? নাকি নিজেকে সে এত ভালবাসে তার জন্য?

এদিককার জঙ্গলের গাছগুলো অনেক বেশি সবুজ, অনেক বেশি প্রাণবন্ত। নদীর উপরে শুকনো গাছের কঙ্কাল দেখে দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করা সৃজিত এদিকার জঙ্গলে এসে নিজেকে হারিয়ে ফেলল। নিজেকে সে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। সূর্য ওঠায় বড় গাছের দঙ্গলের মধ্যে কুয়াশার ছায়ারেখা এক অদ্ভুত মায়াবী রূপ মেলে ধরেছে। নিজেকে তার বড় বেমানান মনে হচ্ছে এখানে। চারপাশে এত সবুজ অথচ সে যেন এক শুকনো পাতা। হালকা হাওয়ায় উড়ে যাবে। নিজের ভিতরটায় হাঁসফাঁস করতে থাকে তার। খুব দ্রুত সে বেরিয়ে আসে জঙ্গল থেকে রাস্তায়। দু'একজন লোক দেখতে পেয়ে নিজেকে একটু শান্ত মনে হয়। এই যে তার ভিতরে উথালপাতাল এ কি আর কাউকে বোঝানো সম্ভব? বিশেষ করে সংসারের চাওয়া পাওয়ার সীমারেখার মধ্যে থেকে তার কোন আপনজন এভাবে তাকে বুঝবে? সৃজিত জানে। কেউ বুঝবে না। যদি বোঝে তাহলে হয়ত কোনো পাঠক বুঝতে পারে। যদি সে কোনও লেখায় এইসব ভালোভাবে লিখে যেতে পারে। হয়ত এটুকুর জন্যই সে বেঁচে আছে। জীবন তার থেকে অনেক দূরে গিয়ে আলো আর ছায়ার ছবি আঁকছে। তার কাজ এখন শুধু কিছু শব্দ আর অক্ষরের খোঁজ করা। বেঁচে থাকার গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের সেই ছবির ক্যানভাসে দু'একটা আঁচড় কাটা। অথচ বেঁচে থাকার সংগ্রাম, সংসারের প্রত্যাশা ক্রমশ তাকে সেই জীবন থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। -'এত যে লেখা লেখা করে ব্যস্ত হয়ে পড়ছো, দু'একখান থ্রিলারও লিখতে পারো নাকি? খবর রাখ কিছু। নতুন থ্রিলারগুলো তো হাজার হাজার কপি বিক্রি হচ্ছে।' আলমারিতে জামাকাপড়গুলো গুছিয়ে রাখতে রাখতে বলে অঞ্জনা।

-'বাজারের মতো করে লেখা আর বাজারের জন্য লেখা এক নয় অঞ্জনা। ওসব তুমি ঠিক বুঝবে না। মানুষকে পঙ্গু করে দিচ্ছে এইসব বই আর ওয়েবসিরিজ। আর প্রতিটি মানুষের সহনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে প্রত্যেকের।'

-'তাহলে শরদিন্দু আর সত্যজিৎ কেন ব্যোমকেশ আর ফেলুদা লিখেছিলেন?'

-'কেন লিখেছিলেন তা বলতে পারব না। তবে তাতে বাঙালী পাঠকসমাজের কোনো উন্নতি হয়নি। সাহিত্যের সমস্তটাই শুধু বিনোদনের জন্য নয়। মানুষকে জানার জন্য, বোঝার জন্যও। তুমি কি রমাপদ চৌধুরির উপন্যাসের সঙ্গে এই থ্রিলারগুলোর তুলনা করতে পারবে? অথবা সুবোধ ঘোষের ছোটগল্পের সঙ্গে?'

অঞ্জনা চুপ করে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর বলে, 'না, তা হয়ত করতে পারব না। তুমি যা বলছ তাই-ই হয়ত সত্যি। কিন্তু আমাদের বাস্তব যে অন্য কিছু দাবি করছে তোমার কাছ থেকে! যদি তুমি লেখা নিয়েই থাকতে চাও তাহলে তো এমন কিছু লিখতে হবে যাতে দু'পয়সা আসে সংসারে। তোমার নাম বা সম্বর্ধনা সভায় গিয়ে একশো টাকার মেমেন্টো নিয়ে আমি বা সোহিনী কী করব বলতে পারো?'

এবার সৃজিত চুপ করে থাকে। সে জানে বাংলা সাহিত্যের দুর্দশা কিছুতেই ঘুচবে না। প্রকাশকের নামে সব দালালে ভর্তি হয়ে গেছে। টাকা ফেললে তবে বই বের হবে নইলে নয়। দু'একজন এখনও প্রকাশনাটাকে ব্যবসা হিসাবে সৎভাবে চালাচ্ছেন কিন্তু পাঠকহীনতায় তাদের দৈনদশা ক্রমশ তাদের ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। সরকারি টাকায় লাইব্রেরিগুলো শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর বই কিনে লাইব্রেরি ভরাচ্ছে। ফাণ্ড কিছু বাকি থাকলে লাইব্রেরিয়ানরা ক্যাশে কত পাওয়া যাবে সেই ধান্দায় এ স্টল থেকে ও স্টল ঘুরে বেড়ান মফস্সলের বইমেলাগুলোতে। সৃজিত নিজের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে পড়ে। অঞ্জনা কিছু একটা বলে। সৃজিতের কানে ঢোকে না। অন্য কোনও জীবিকা তার জন্য কী হতে পারে এই ভাবনায় সে নিজেকে তোলপাড় করতে থাকে। ক্লান্ত হতে থাকে। মাথা ভারি হয়ে আসে। কখন ঘুমিয়ে পড়ে বুঝতে পারে না।

এইসব ভাবতে ভাবতে চায়ের দোকানটা পেরিয়ে যাচ্ছিল সৃজিত। দোকানদারই তাকে হেঁকে বলল, 'চা রেডি বাবু। চা খাবেন না?'

-'হ্যাঁ হ্যাঁ। দিন।' দোকানের ভিতরটায় ঢোকে সৃজিত। ভিতরটা বেশ বড়। ভিতরে বেশ কয়েকটা টেবিলচেয়ার পাতা আছে। দেখে মনে হয় এটা দুপুরবেলা একটা ভাতের হোটেল। দোকানি চায়ের গ্লাস নিয়ে এসে রাখে টেবিলে। 'বাবু কি দুটো বিস্কুট খাবেন? খুব ভালো লোকাল বেকারির টাটকা বিস্কুট আছে।'

-'একটা দিন। আচ্ছা আপনি কি এখানে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করেন নাকি?'

-'হ্যাঁ বাবু।' খবরের কাগজে একটা বিস্কুট মুড়িয়ে সৃজিতকে দিতে দিতে বলে সে। 'আসলে এখানে অনেকে বেড়াতে আসেন দুপুরে বা বিকেলে। তারা এখানে থাকেন না। আলিপুরদুয়ারের হোটেলে থাকেন। তাদের কেউ কেউ খান।'

-'ওহ। তাহলে আপনার ব্যবসাটা বেশ বড়ই। তা লোকজন ক'জন?'

-'দু'জন আছে। সঙ্গে আমি আর আমার ছেলে। দুপুরের কাস্টমার চলে গেলে আমি বাড়ি যাই খেতে আর বিশ্রাম নিতে। তখন ছেলে দেখে দোকান। আমি আবার সন্ধেবেলা আসি।'

-'আমি তো ভাবতেই পারিনি এখানে এরকম হোটেল কিছু আছে বা চলতে পারে।'

-'কী যে কন বাবু। এই যে আপনারা এখন জয়ন্তী দেখতে আসেন ওই 'আবার অরণ্যে' সিনেমাটার পর। রূপা গাঙ্গুলির ওই ভাঙা ব্রিজ থেকে পড়ে যাওয়ার পর জয়ন্তীর ওই ভাঙা ব্রিজ কত নাম করল। অথচ, যখন ভুটানের সাথে ভারতের ব্যবসা চলত; জয়ন্তীর রেলস্টেশন গমগম করত লোকজনের চিৎকারে তখন কেউ ওই ব্রিজটার কথা জানত না।

কেউ আসত না ওটা দেখতে, ওটার খবর নিতে।'

-'তাই নাকি? তারপর?'

-'ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হলে যা হয়। তাই হল। আলো ঝলমলে জয়ন্তী, মুঠে শ্রমিকদের গমগমে জয়ন্তী স্টেশন বন্ধ হয়ে গেল। ওইদিকটায়, স্টেশনের উল্টোদিকে আমার দাদুর হোটেলের ব্যবসা ছিল। বাবার কাছে শুনেছি, দু'বেলা নাকি দু'শ আড়াশ লোক খেত সেই হোটেলে। তারপর সব বন্ধ হয়ে গেল। রাতারাতি আমাদের রোজগার বন্ধ হয়ে গেল। দাদু মারা যাবার পর হোটেলের জমিটা বেচে দিয়ে আর বাজারে সব্জি বেচে বাবা সংসার চালাতে আরম্ভ করল। তারপর আমি এই দোকানটা করলাম।'

-'এই জমিটা কিনলে কী করে?'

দোকানদার হো হো করে হেসে উঠল। বলল, 'বাবু ভাল করে লক্ষ্য করেননি বুঝেছি। এটা তো সরকারি জমি। এটাই জয়ন্তী স্টেশন। এই দেখুন আপনার পায়ের নিচ দিয়ে রেললাইন চলে গেছে।'

সৃজিত দোকানের মাটিতে পা ঘষে টের পেল রেললাইনের অস্তিত্ব। তারপর পরিস্কার দেখতে পেল দোকানের মধ্যে দিয়ে রেললাইনটা চলে গেছে রান্নাঘরের দিকে। এক অদ্ভুত ইতিহাসের গন্ধ ম ম করছিল গোটা দোকানটায়। দোকানদার সৃজিতকে বলল, 'বাবু আপনারা তো শহরের লোক। কত গ্রামকে শহর হতে দেখেছেন। আর আমরা দেখেছি শহরকে গ্রাম হয়ে যেতে। আর সেই গ্রামের আজকের নাম জয়ন্তী'।

সৃজিতের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল দোকানির কথা শুনে। কী অদ্ভুত কথা! শহরের গ্রাম হবার ইতিহাস। কোনও যুদ্ধ হয়নি, কোনও ধ্বংসের কারবার নেই এখানে অথচ মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে যেন ধ্বংস হয়ে গেছে এই সুন্দর পাহাড়ি গ্রামে। এখানে আদর ভালবাসা আছে পিকুর মতো, যত্ন আছে শ্যামলালের মতো আর ইতিহাসের গাইড আছে এই দোকানদারের মতো।

-'কত হল আপনার?' একটা কুড়ি টাকার নোট বাড়িয়ে দিল সৃজিত। দোকানদার দশ টাকা ফেরত দিয়ে বলল, 'আবার আসবেন বাবু।'

হোম-স্টে'র গেট খোলার সাথে সাথে পিকু এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল সৃজিতের গায়ে। শ্যামলাল রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, 'সাব, চা করি?' সৃজিত বলল, 'না শ্যামলাল। বাইরের দোকানে চা খেয়ে এসেছি। জলখাবারের পরই চা করে দিও। ঘরে ডিম থাকলে আজ রুটি তরকারির সাথে একটু ডিমের ভুজিয়া করে দিও তো!' তারপর পিকুকে কোলে নিয়ে বলল, 'কী রে পিকু? তুই ডিমের ভুজিয়া খাবি তো রুটির সাথে?'

শ্যামলাল রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বলে, 'সাবজী, বিনয় স্যার ফোন করেছিলেন। আপনাকে একবার ফোন করতে বলেছেন।' সৃজিত পিকুকে সিঁড়িতে নামিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে উপরে উঠে আসে। বিনয়বাবুকে নিয়মিত ফোন না করাটা তার একটা ভুল হয়ে যাচ্ছে। এবার থেকে রোজ রাতে একবার ফোন করার কথা মনে মনে ঠিক করে সৃজিত।

(ক্রমশ)

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।