কবিতা

মেঘের চিঠি



অর্ণব ভট্টাচার্য


ভীষণ রকম মেঘ করেছে লিখছি বসে, বর্ষা-গীতি,
জানি তুমি আগের মতই পড়বে না এই মেঘের চিঠি।

পাঠিয়ে দেবো বৃষ্টি খামে, এমন অনেক ইচ্ছে-কথা,
তোমার ঘরের ব্যালকনিতে, ঠিক যেখানে মাধবীলতা।

অনেক বছর আগের কথা, বোকা শালিক যেমন ভেজে।
আমিও একলা ভিজছি কেবল, দাঁড়িয়ে ছিলাম বাস-স্টপেজে।

টুয়েলভ সি বাস এমনি ছোটে, জলের তোড়ে দাঁড়াই কোথা!
বাসের ভিতর তোমার চুলে হাজার নদীর খরস্রোতা।

এক-হাঁটু-জল এমনি বেহাল, আমার শহর, এ কলকাতায়...
তখন আমি ছন্দ মাপি, এক পা, দু'পা, মেঘের খাতায়।

ছোকরা দোকান বন্ধ করে। পশরা গোটায় ভরদুপুরে।
সপসপে জল, মনের ভেতর। রাজারহাট কি যাদবপুরে।

আঙুলসোহাগ, আদরবিকেল, স্কুল কলেজে বৃষ্টিছুটি।
বুকের ভেতর লুকিয়ে রাখা প্রথম ছোঁয়ার অনুভূতি।

যাক গে, সে সব দিনের যাপন, সঙ্গী ছিল বন্ধু ছাতা।
হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে সেদিন আঁকড়ে ছিলাম, লেখার খাতা।

আকাশ-ভাঙা বৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে সেদিন তোমার পাড়ায় -
ঠিকানাহীন সে-সব লেখা ভাসিয়েছিলাম মুষলধারায়।

তোমার কাছে হারবো শুধুই, শপথ করি, আর না জিতি -
ঝাপসা তখন আমার চোখে, তোমায় লেখা, মেঘের চিঠি।