ভ্রমণ ও দেশ-বিদেশ

কাসারদেবীর কাশায় পাহাড়ে



অরূপ কুমার ঘোষ


কুমায়ুন হিমালয় ভ্রমণের ষষ্ঠ দিনে আজ বেশ সকালেই আমরা বেড়িয়ে পড়লাম। উত্তরাখণ্ডের চৌকরীর 'আপনা ঘর' হোটেল তখন অপসৃয়মান, আমরা এগিয়ে চললাম। অক্টোবর মাসের ১১ তারিখেই এখানে এখন বেশ ঠাণ্ডা।

আজ আমাদের গন্তব্যস্থল উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া শহরের অতি বিখ্যাত এক বৈজ্ঞানিক-আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান - কাসারদেবী মন্দির, মূলত যে স্থানের টানেই আমাদের এবারের এই ভ্রমণের পরিকল্পনা।

তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পান করতে করতে আর সংকীর্ণ পাহাড়ি রাস্তার বাঁদিক দিয়ে বয়ে চলা এই অঞ্চলের এক অতি বিখ্যাত রামগঙ্গা নদীকে দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে আমরা এগিয়ে চললাম আমাদের গন্তব্যে।

চৌকরি থেকে কাসারদেবী - এ এক দীর্ঘ পথ। আমাদের আজকের প্রথম দর্শনীয় স্থান যজ্ঞেশ্বর মন্দির এখন অনেক দূরে (চৌকরি থেকে যার দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার)। পথিমধ্যে কয়েকটি বিরতির পর বেলা প্রায় দু'টো নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের আজকের প্রথম আকর্ষণ যজ্ঞেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে। প্রায় দু' ঘণ্টা সময় নিয়ে ঐতিহাসিক এই মন্দির প্রাঙ্গণ এবং তৎসংলগ্ন ভারত সরকারের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের রক্ষণাবেক্ষণে পরিচালিত একটি অতি মূল্যবান দেব-দেবীমূর্তি সম্বলিত জাদুঘরের নিরীক্ষণ অভিজ্ঞতা লাভ ক'রে আমরা আবার এগিয়ে চললাম।

পথিমধ্যে গলু দেবতা মন্দির (যেখানে সবাই ভগবানের কাছে চিঠি লেখে) দর্শন করলাম। হঠাৎ দেখি, মন্দির চত্বরে জাজ্বল্যমান যজ্ঞকুন্ডের সাগ্নিকের কাছে ভগবানকে লেখা কোনো ভক্তের এক পত্র উড়ে এলো হঠাৎ দমকা বাতাসে। সাগ্নিক মহাশয় নাটমন্দির পরিষ্কারে ব্যস্ত জনৈক মন্দির কর্মীর উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিলেন উক্ত পত্রটিকে, মন্দির কর্মীটিও অম্লান বদনে ওই পত্রটির ওপর নাটমন্দিরের আবর্জনা জমা ক'রে পত্রসহ তা নিক্ষেপ করলেন মন্দিরের জঞ্জাল পাত্রে।

আমরা আবার রওনা দিলাম। অবশেষে সন্ধ্যা প্রায় ছ'টা নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের সেই দীর্ঘ আকাঙ্খিত কাসারদেবী গ্রামে। না, আজ আর আমরা দেবী দর্শনে যাবো না। তাই, কাসারদেবী পাহাড়কে বাঁদিকে রেখে আমরা যখন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছি আমাদের আজকের আস্তানা 'দেবুলিস্ হোম-স্টে'র দিকে, পড়ন্ত এই বিকেলে তখন কাসারদেবী পাহাড় থেকে নেমে আসছে একগুচ্ছ য়ুরোপিয়ান তরুণ-তরুণী।

কিন্তু, হোম-স্টেতে এসে শরীরের সব ক্লান্তি যেন কোথায় উড়ে গেল, ধীরে ধীরে মনটাও ভীষণ শান্ত হয়ে গেল। আর যাবে নাই বা কেন?

কারণ, উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া শহরের সুন্দর উপত্যকা আর হিমালয়ের নয়নাভিরাম মনোরম পরিবেশে কাশায় পাহাড়ের চূড়ায় সবুজ বনানীর মাঝে অবস্থিত এই কাসারদেবী গ্রাম একটি ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।

১৮৯০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ সর্বপ্রথম এই মন্দির-নিকটবর্তী একটি গুহায় তাঁর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের রসদ খুঁজে পেয়েছিলেন; দীর্ঘ তপস্যা শেষে তীব্র আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে এই স্থানেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন মানবমুক্তির পথ, বিশ্ব মানবতার সেবায় আত্মোৎসর্গ করার প্রেরণা।

স্বামীজির পত্রাবলী আর ডায়েরিতে এই স্থানের আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলের উল্লেখ প্রাপ্তির পরমুহুর্তেই আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে নির্মিত এই গুহা মন্দিরের অস্তিত্ব আর তার গুণাবলী প্রচারিত হয় বিশ্বময়।

উত্তরাখণ্ডের এই ধ্যানকেন্দ্রে এক টুকরো মানসিক শান্তির সন্ধানে তাই পরবর্তীতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন বিখ্যাত ইংরেজী সাহিত্যিক ডি. এইচ. লরেন্স, বিটলস গায়ক বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং ডেনিশ রহস্যবাদী সুন্যাতা বাবা (আলফ্রেড সোরেনসেন), তিব্বতী বৌদ্ধ লামা আনাগরিকা গোবিন্দ (আর্নেস্ট হফম্যান), বিখ্যাত আমেরিকান কবি অ্যালেন্স গিন্সবার্গ, রহস্যময়ী সন্ত আনন্দময়ী মা, আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী টিমোথি লিয়ার প্রমুখ বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, কাটিয়েছেন তাঁদের জীবনের এক দীর্ঘ সময়। এইভাবে, ধীরে ধীরে ১৯৬০ এবং ১৯৭০-র দশকে এই অঞ্চলটি হয়ে ওঠে বিখ্যাত বোহেমিয়ান শিল্পী, সাহিত্যিক এবং পশ্চিমী তিব্বতী বৌদ্ধদের আবাসস্থল। ফলশ্রুতিতে, জনপ্রিয় এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে জনপ্রিয় এক 'ক্র্যাঙ্কস রিজ' বা হিপি হিলসে।

কিন্তু, এক বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিমন্ডলে সমৃদ্ধ এই মন্দির কিন্তু আজও জনপ্রিয় তার এক বিশেষ বিরল বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যে। পৃথিবীর তিন ভ্যান আলেন বেল্টে-র (এক মহাজাগতিক ধণাত্মক তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তিকেন্দ্র) অন্যতম এই অঞ্চল ২০১০ এবং ২০১৩ সালে নাসা (NASA)-র বিজ্ঞানীদলের গবেষণায় সমৃদ্ধ হয়েছে। পেরুর মাচু পিচ্চু এবং ইংল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক স্টোনহেঞ্জ -র সঙ্গে আজ তাই একই সাথে উচ্চারিত হয় এই কাসারদেবী মন্দিরের নাম।

ঐতিহাসিক এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের অতীতের এই বর্ণময় ইতিহাস ভাবনাকে সঙ্গী ক'রে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। এক ক্লান্তিহীন, শ্রান্তিহীন রাত্রি শেষে যখন ঘুম ভাঙল, ঘড়িতে তখন ভোর পাঁচটা। ঘরের বাতায়নে দৃশ্যমান তুষারাবৃত পঞ্চচুল্লিকে সাক্ষী রেখে শয্যাত্যাগ করলাম।

সকাল আটটাতেই বেড়িয়ে পড়লাম। প্রথমে গেলাম হোম-স্টের অদূরেই অবস্থিত বৌদ্ধ মঠে। নিস্তব্ধ নির্জন ওই মঠ প্রাঙ্গণের প্রধান দুয়ার তখন উন্মুক্ত থাকলেও, মন্দির দুয়ার কিন্তু তখনও বন্ধ। সম্পূর্ণ জনমানবশূন্য এই মঠ প্রাঙ্গণে আমাদের ঘোরাঘুরির মাঝেই বাইক আরোহী এক লামা এসে হাজির হলেন, খুলে দিলেন মন্দিরের দুয়ার। তিনিই জানালেন মঠের আবাসিক সকল লামা এখন অদূরের একটি ধ্যানকেন্দ্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত আছেন। যাই হোক, মন্দির অন্দরে প্রার্থনা শেষে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম কাসারদেবী মন্দিরের উদ্দেশ্যে।

অবশেষে আমরা পৌঁছে গেলাম আলমোড়া - বাগেশ্বর মহাসড়কের মাঝে আলমোড়া শহর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কাশায় পাহাড়ের পাদদেশে। এখানেই অবস্থিত মূল মন্দির প্রবেশের দুয়ার। শুরু হ'ল আমাদের পাহাড়ি পদব্রজন। পাহাড় চূড়ায় পাইন আর দেবদারু গাছে ঘেরা এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পাথুরে সিঁড়িতে প্রায় পাঁচ মিনিট আরোহণ শেষে প্রথমেই আমরা কাসারদেবী মায়ের দর্শন পেলাম। কথিত আছে, মা দুর্গার অন্যরূপ মা কৌশিকীকে উৎসর্গীত এই গুহামন্দির প্রাঙ্গণেই মা কাসারদেবী শুম্ভ এবং নিশুম্ভ নামক দুই রাক্ষসকে বধ করেছিলেন যার উল্লেখ পাওয়া যায় 'দেবী ভাগবত পুরাণ' সহ নানাবিধ ধর্মগ্রন্থে।

মূল ফটকের ভিতর থেকে ক্রয় করা পূজা উপাচার এখানেই আমার সহধর্মিনী দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করল। কিন্তু, পুরোহিতমশাই উক্ত উপাচার থেকে শুধুমাত্র নারকেলটিকে রেখে দিয়ে অবশিষ্টাংশটুকু দেবীর প্রসাদরূপে আমাদের সমর্পণ করলেন। বুঝলাম, চিরাচরিত প্রথানুযায়ী উক্ত নারকেলটি পুনরায় ফিরে যাবে পূজা উপাচার বিক্রয়ের উক্ত দোকানে এবং এইভাবেই...।

দেবী মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে আবার ওই পাথুরে সিঁড়িপথে প্রায় পাঁচ মিনিট আরোহণ ক'রে আমরা এবার বাবা ভোলনাথের দর্শন পেলাম। এই মন্দিরের বাইরে রয়েছেন নন্দী মহারাজ এবং সিংহের মাথা সদৃশ একটি পাথুরে ভাস্কর্য যার নাম সরদুলা (শিব পুরাণ অনুসারে সরদুলা-র অর্থ বাঘ যিনি বীরভদ্রের দেহরক্ষী)। স্থানীয়দের মতে, এই মাথাটি মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই বিদ্যমান। এই মন্দিরের পাশেই অবস্থান করছে ভৈরব এবং মা কালিকার মন্দির যেখানে অতীতের এক দীর্ঘ সময়ব্যাপী বলিদানের রীতি চালু ছিল, বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক কারণেই যা বন্ধ হয়ে গেছে।

এই মন্দিরের তলদেশেই অবস্থান বিখ্যাত সেই বিবেকানন্দ গুহার। প্রাকৃতিক কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই গুহার খুব সামান্য অংশই আজ অবশিষ্ট। প্রায় হামাগুড়ি দিয়েই সেই গুহায় প্রবেশ করলাম; ভিতরে ঢুকে মনে হ'ল যেন কোনো এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসে আছি। বাইরের আধো সূর্যালোক আর আধো অন্ধকারের এই মায়াবী পরিবেশে মাটির ওপর রেখে দেওয়া একটি আসনে বসে পড়লাম। নিস্তব্ধ এই গুহায় আমার সামনে তখন একটি ত্রিশূল আর বাবা ভোলানাথ এবং হনুমানজীর পৃথক দুটি চিত্র। দীর্ঘক্ষণ আমি ওখানেই বসে রইলাম, আর গুহার বাইরে পাহারায় রইল আমার সহধর্মিনী। অবশেষ অদ্ভুত এক শান্ত মন নিয়ে আবার প্রায় হামাগুড়ি দিয়েই গুহা থেকে বেরিয়ে এলাম, কারণ গুহার সংকীর্ণ উচ্চতা কোনো পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দাঁড়ানোর জন্য উপযুক্ত নয়। এবারে আমার সহধর্মিনী গুহায় প্রবেশ করল, বাইরে অপেক্ষায় রইলাম আমি। প্রসঙ্গত বলে রাখা দরকার যে, এই গুহায় শুধুমাত্র দু’জন মানুষই কোনোপ্রকারে একসাথে বসে থাকতে পারে।

বিবেকানন্দ গুহা থেকে বেড়িয়ে আবার উঠে এলাম দেবাদিদেব মহাদেবের মন্দিরে। পাইন আর দেবদারুর জঙ্গল ঘেরা কাশায় পাহাড়ের এই চূড়া থেকে দূরে তখন একদিকে দেখা যাচ্ছে আলমোড়া - হাওলাবাগ উপত্যকার দৃশ্য, অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশ সীমান্তের বন্দরপুঞ্চ শৃঙ্গ, নেপালের আপি হিমাল, আর হিমালয়ের পঞ্চচুল্লীর অপরূপ সৌন্দর্য। সে যেন এক মোহময় পরিবেশ। এই পরিবেশেই চুপচাপ বসে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ।

এই মন্দির চত্বরেই রয়েছে একটি অখন্ড জ্যোতি, যা বছরভর ২৪ ঘণ্টা জাজ্বল্যমান, একটি ধুনি বা হবন কুণ্ড যেখানে ২৪ ঘণ্টাই জ্বলছে জঙ্গলের কাঠ, কারণ স্থানীয় বিশ্বাস অনুসারে শক্তিশালী এই ধুনির ছাই যেকোনো মানসিক রোগীকে সুস্থ করে তুলতে পারে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাবা মহাদেবের এই মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত ক'রে অবশেষে পাহাড় চূড়া থেকে নীচের দিকে নামতে শুরু করলাম। পথিমধ্যে আবার এসে পৌঁছলাম স্কন্দ পুরাণ বর্ণিত যক্ষ আর গন্ধর্ব নির্মিত গুহাসদৃশ ওই কাসারদেবীর মন্দিরে, যদিও মন্দিরের এই বর্তমান কাঠামোটি আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে নির্মিত হয়েছিল। এখানেই সন্ধান পেলাম এই মন্দিরের এক বৃদ্ধ সেবকের। অত্যন্ত আন্তরিক, অমায়িক স্বভাবের বৃদ্ধ এই মানুষটি জানালেন যে তিনিই ওই বিবেকানন্দ গুহাটিকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন, আগন্তুকদের জন্য ওখানে পেতে রাখেন দুটি আসন। তাঁর কাছ থেকেই জানলাম, মন্দির প্রবেশের মূল ফটকের পাশেই রয়েছে নাগ ডাল; দুটি সাপ আকারের প্রস্তর সহ একটি বিশাল প্রস্তর খন্ড। স্থানীয় বিশ্বাস যে, তপস্যায় বিঘ্ন সৃষ্টি করায় জনৈক সাধুর অভিশাপে প্রস্তরীভুত ওই সাপদুটি হয়তো আবার একদিন প্রাণ ফিরে পাবে এই কলিযুগে, যেমন ফিরে পেয়েছিলেন অহল্যা সত্যযুগে ভগবান শ্রীরামের পদস্পর্শে। সেবক এই ভদ্রলোকের কাছে আরও শুনলাম যে প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় এই মন্দির চত্বরেই বৃহৎ একটি মেলা বসে যা 'কাসারদেবী মেলা' নামে পরিচিত।

অদ্ভুত এক মানসিক শান্তি আর প্রসন্নতা নিয়ে ধীরে ধীরে কাশায় পাহাড়ের পাদদেশের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলাম; এবারে আমাদের ফিরে যাওয়ার পালা। কিন্তু, পথিমধ্যে সহসা এক বাঁদরের আক্রমণের শিকার হলাম; সে যাই হোক শিক্ষিত, রুচিশীল, ইতিহাসপ্রিয় ভারতীয়, য়ুরোপিয়ান আর আমেরিকানদের কাছে জনপ্রিয় এই আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে রবাহুতের মতো দিওয়ালির অবসর বিনোদনে হঠাৎ হাজির হওয়া দলবদ্ধ কিছু অবাঙালি পর্যটক সৃষ্ট অশ্লীল শব্দ-দানবের আক্রমণের কাছে বাঁদরের এই আক্রমণ বড়ই নিরীহ।

দশ মিনিটের পদব্রজন শেষে মূল মন্দিরের মূল ফটকে পৌঁছে গেলাম। পাহাড় চূড়ায় আবার একবার তাকালাম, প্রণাম করলাম দেবী মা'কে; আর দেখলাম সকাল ন'টার নিস্তব্ধ, নির্জন এই কাশায় পাহাড় এখন অসংখ্য পর্যটকের আগমনে কোলাহল মুখরিত, যাদের সিংহভাগই আমার মতো বঙ্গসন্তান।

হালকা শীতের আমেজ গায়ে মেখে শান্ত মনে আবার আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। বেলা তখন প্রায় ১১টা, কিভাবে যে দু'ঘন্টা কেটে গেল!

এবারে আমাদের গন্তব্য অদ্বৈত আশ্রম, মায়াবতী। অনির্বচনীয় এক প্রাণের শান্তি আর মনের আরামকে সঙ্গী ক'রে আমরা আবার এগিয়ে চললাম...।