বিস্ফোরণে কাঁপার বা চমকানোর কিচ্ছু হয়নি। কারণ আমরা জানি বিহারে ভোট চলছে। ভোট এলেই ভারতের কোথাও না কোথাও তো সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ ঘটেই থাকে। এরপর দেশপ্রেম আর পাকিস্তানের গল্প শুনিয়ে ভোট বৈতরণী পার করার কৌশল পুরোনো হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কী? পুরোনো চাল ভাতে বাড়ার প্রবাদও তো আমাদের সকলের জানা। তাই না?
নির্বাচন কমিশন থেকে SIR-এর সাঁড়াশি অভিযানে যখন বিহারের গদি নিশ্চিত করা যায় না তখন বিস্ফোরণের অথবা সন্ত্রাসবাদের সাহায্য তো নিতেই হয়। শেয়ার বাজার থেকে শাসনক্ষমতা - সব কিছুই নির্ধারণ করে লোভ নয় ভয়। ভর্তুকির লোভ আর ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়। আর কে বলতে পারে যে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিনের মতো শেয়ার বাজারে নতুন কিছু খেলা আমরা দেখতে পাব না!
প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার কর্পোরেট ঋণ মুকুবের পাশাপাশি সরকারি টেন্ডারে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়াজ তুলে কী হবে? বাস্তবে আমাদের হাতে স্মার্ট ফোন ধরিয়ে দিয়ে আনস্মার্ট ক্রিয়েটিভিটির অবাক করা নেশা ধরিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে রাষ্ট্র।
দেশ আর দশ গুলিয়ে দিয়ে, বিকাশ আর বিনাস মিশিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র এখন দেশপ্রেমের বুলি আওড়াতে ব্যস্ত। আর গুটিকয়েক দেশদ্রোহীর(!) আওয়াজ ঢাকা দিতে মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণ জরুরি হয়ে পড়ে বৈকি!
শিক্ষায় জল আর ভর্তুকি সম্বল পরবর্তী প্রজন্মের হাতে হয় ভিক্ষার বাটি নয় দলীয় রাজনৈতিক ঝান্ডা দেখার জন্য তৈরি থাকা আমাদের মতো বাপ-মায়েরা নিরাপত্তা খুঁজতে এইচ-বি ওয়ান ভিসা নিয়ে যতটা চিন্তিত, তার বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন আমাদের পাড়া, মহল্লার স্কুলগুলো উঠে যাবার ফরমান শুনে। এখন দিন গুণে গুণে আর স্বপ্ন বুনে বুনে ব্যাঙ্কে টাকা জমাবেন আর ব্যাঙ্কগুলোর মহামিলন ঘটিয়ে সরকার কর্পোরেট ঋণ দিতে ব্যাঙ্কগুলোকে বাধ্য করে কীভাবে পঙ্গু বানাল তা আপনাকে বোঝার সুযোগ দেবে না। আপনি গর্বিত হবেন দেশের বা বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাঙ্কের গ্রাহক হিসাবে আর লাভবান হবেন আম্বানি আর আদানি; কর্পোরেট ঋণ শোধ না করে।
এখন নজর রাখুন বিহারের ভোটের ফলাফলের দিকে। আর তারপর, বাংলার ভোটারদের ডি-ভোটার হবার তথ্যের পাতায়। যদিও সব তথ্য এ দেশে প্রকাশিত হয় না। পাড়া, মহল্লায় চোর ধরার জন্য সি.সি.টিভি বসানো হলেও প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে চুরি হয়ে যায় বিতর্কিত রাফাল চুক্তির নথিপত্র।
এ অসময়ে, ভয়ংকর এক বিস্ফোরণের পর এইসব জুমলাবাজির কথা আপনাদের মনে করিয়ে দেবার জন্য দুঃখিত। যারা আজকের ভয়ংকর বিস্ফোরণে মারা গেলেন তাদের আত্মার মুক্তির পাশাপাশি আমাদের মুক্ত ভাবনার জন্য সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি জনগণতান্ত্রিক ভারতের পুনরুত্থান।
