...রীতিমতো ক্রুদ্ধ তুমি। গোঁফ মোচড়াতে মোচড়াতে ঘন ঘন রক্তচক্ষে তাকাচ্ছো আমার মৃতদেহের দিকে। বে-টাইমে মরে গেছি আমি। এবং তোমার সম্মতি ছাড়াই। তবে এটা কোনো আত্মহত্যাজনিত অবাধ্যতা নয়। আমার মৃত্যুর কারণ হার্ট-অ্যাটাক। তবুও এ-ঘটনা থেকে বেশ কিছুটা গোঁয়ার্তুমির হদিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাইনা? কী রোগে এবং কখন মারা যাওয়া উচিত ছিলো ...মানে, তোমার পক্ষে কোনটা বেশি সুবিধাজনক হতো, সেটা জেনে নেওয়া হয়নি, ...তাই মান্য করার সুযোগটাও পাওয়া গেলো না। আর সেটা কারই-বা হাতে থাকে?
আমার মৃতদেহের মধ্যেই সিঁটিয়ে রয়েছি আমি। চিৎকার, চেঁচামেচি, দোষারোপ, গালাগালি, কাপ-প্লেট ভাঙাভাঙি কখন যে শুরু হবে সেই আশঙ্কায় মরেও শান্তি পাওয়া যাচ্ছে না।
চারিদিকে তাকাচ্ছো তুমি। তোমার চোখে আগুন। আমার প্রিয় বইগুলো তাক থেকে টেনে টেনে নামাচ্ছো। ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছো পাশের পুকুরে। সাজানো গোছানো এই সংসারটা আমার মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সাময়িক ভাবে ভেঙে গেছে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। সামনের কাজের তালিকা হয়েছে ছিন্ন ভিন্ন। এর যথাযথ শাস্তি কী-ভাবে-যে আমাকে দেওয়া যায় তা তুমি ভেবেই পাচ্ছো না। আর ...আর, ভীষণরকম হেরে যাচ্ছো তুমি।
ভাবা যায়! একটা মৃতদেহের কাছে হেরে যাচ্ছে একটা আস্ত জীবন্ত মানুষ!
