
অনেকেই জানেন না, তবে কেউ কেউ জানেন, জীবনে একবার পি. কে. ব্যানার্জী খেলেছিলেন অমল দত্ত-র কোচিংয়ে।
সেটা ছিল ১৯৬১ সাল। ১৯৬১-৬২র সন্তোষ ট্রফির কোয়ালিফাইং রাউন্ডের খেলা হয়েছিল খড়্গপুরে। রেলওয়েজ দলের কোচ ছিলেন অমল দত্ত আর অধিনায়ক ছিলেন পি. কে. ব্যানার্জী।
রেল ওয়াগন আর খড়্গপুর রেলওয়ে স্টেশনে করা হয়েছিল খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা। তরুণ কোচ অমল দত্তর কোচিংয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তখন খেলোয়াড় জীবনের মাঝ আকাশে রোদ ছড়ানো রেলওয়েজ অধিনায়ক পি. কে. ব্যানার্জী।
শুধু কোয়ালিফাইং রাউন্ডের বেড়া সসম্মানে অতিক্রম করেই না থেমে শেষ অবধি রেলওয়েজ সেবার সন্তোষ ট্রফি জিতেছিল বোম্বাইকে ফাইনালে তাদের মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়ে।
অমল দত্তর কোচিং মুকুটে সেটাই ছিল প্রথম উজ্জ্বল ট্রফির রত্ন। আর পি. কে. ব্যানার্জীর সন্তোষ ট্রফিতে অন্যতম সেরা পারফর্মেন্স ছিল সেবারই। টুর্ণামেন্ট শেষে অমল দত্ত বলেছিলেন "জানকবুল করে খেলে প্রদীপ এই ট্রফিটি জিতে নিয়ে আমায় জিতিয়ে দিয়েছিল।"
অলক্ষ্যে মুচকি হাসি হাসতে থাকা ফুটবল বিধাতা ছাড়া কেউই সেদিন এর এক দশক পরে শুরু হতে যাওয়া তিন দশকব্যাপী তাঁদের দু'জনের ধুন্দুমার কোচিং লড়াইয়ের আভাস সম্ভবত ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। ভাগ্যিস!
অনিঃশেষ অমল দত্ত আর প্রথিতযশা পি. কে. ব্যানার্জীর জন্মদিনের ব্যবধান ছিল ৬ বছর ৫০ দিনের (৪ মে ১৯৩০ আর ২০ জুন ১৯৩৬, যথাক্রমে)।


তাঁদের ফুটবল প্রজ্ঞার ছাপ রয়ে গেছে দুজনের মধ্যে সিনিয়র অমল দত্তর লেখা "ফুটবল খেলতে হলে" এবং জুনিয়র পি. কে. ব্যানার্জীর লেখা "বিয়ন্ড নাইন্টি মিনিটস" বই দু'টিতে।
এখন প্রয়াত তাঁরা দুজনেই তাঁদের ফুটবল প্রজ্ঞার জন্য আরো বহু যুগ বেঁচে থাকবেন আমাদের ফুটবল মননে।
