কবিতা

"জীবন গিয়াছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার"



আয়েশা বিনতে রাশেদ তিথী (বাংলাদেশ)


পৃথিবী-পৃষ্ঠের বহিরাবরণের মতো দীর্ঘ ও বিস্তৃত তোমার হৃদয়।
উত্তর মেরুদেশীয় শীতলতার সমস্তটাকে হৃদপিন্ডের এক-কোণে জমা রেখে মেনে নিচ্ছো আমার সকল স্বেচ্ছাচারিতা।

যে ব্যথা তুমি লুকোতে যাও উদ্যানের ফাঁকা মাঠ
বা চুরি যাওয়া বালিশের কভারে,
ক্রমশই যেন তা প্রকাশ্য হয়ে উঠছে আরো; সিন্ধু কিংবা মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রাচীনতম নিদর্শন হয়ে।
যেন সেই অনাদীকাল থেকেই তুমি টিকে আছো
কেবল স্টেশনের বিক্ষুব্ধ কাক
অথবা কফিশপের বাইরের একটা
আহত শালিক পাখির মতো পৃথিবীর
যাবতীয় ময়লাকে গলাধঃকরণ করতে!

জগতের সব ময়লার কতটুকু ফেলতে পেরেছো তা আমার জানা নেই তবে
ধ্বসে যাওয়া টেগোর লজ,
ডেনভারের একটা গান কিংবা
সন্ধ্যায় মিলিয়ে যাওয়া একজন বয়স্ক ট্রাফিক পুলিশ, এ সমস্তই গলাধঃকরণ করে ফেলতে পেরেছো নিমেষেই; শুধুমাত্র নিজের কাছে বুর্জোয়া হয়ে টিকে থাকার লড়াই-এ থেকে গেলে
সেদিন হতে বহুকাল!
হতে পারে প্রোলেতারিয়েতদের শাসন করতে গিয়ে নিজেই কখন এক পুরোদস্তর প্রোলেতারিয়েত
বনে গেলে তা ভাবার আর অবসর পেলেনা কখনোই
অথবা তোমার আর সমস্ত অনুভূতির মতো কার্ল মার্কস-এঙ্গেলস জুটির সেই অনবদ্য থিয়োরিও আজকাল তোমার কাছে ঝাপসা!
এই বোধ করি ভালো!

টেথিস সাগরের উন্মত্ত ঢেউ চোখে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকে যে যুবক, জগতের মামুলী বিস্ময়-শোক-মহামারীতে তার বোধহয় কিছু যায় আসতে নেই।
হতে পারে প্রকৃতির নিজস্ব স্বার্থেই 'শক্তি'র যে স্পর্ধা তুমি নিজের বলে দাবি করো তা
কখনোই তোমাকে দেওয়া হয়নি।
আর হয়তো হবেওনা!

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।