কবিতা

বৃষ্টি



মুদ্রালী চক্রবর্তী


ভোরে পর্দাখানা সরাতেই দেখি তোমার মুখ ভার,
অভিমানে থরথর করা দুটি করমচা লাল ঠোঁট,
চোখদুটিতে কত জন্মের গঙ্গা-যমুনা আশ্রয় দিয়েছ কে জানে!

আমার শ্রান্ত শরীর, নির্ঘুম রাতের আক্রোশ মেটাচ্ছে বুঝি চোখের পাতা!
তবুও ভালো করে তাকালাম তোমার দিকে।
গম্ভীর তুমি, কাজললতার সমস্ত কাজল একদিনে নিয়ে বুঝি তুমি প্রসাধন করেছ?

ভেবেছিলাম প্রশ্নখানি করি!
ভয় পেলাম, পাছে রেগে গিয়ে গর্জে ওঠো।
রাগলেও ভারি সুন্দর লাগে তোমায়! বলা হয় নি কখনও যদিও!
তবে এই রূপটা যেন অনন্য!

আসলে দুঃখিনী তোমাকে দেখি নাতো কখনও -
সবসময়ই কেমন যেন তাচ্ছিল্য ভরা হাসি ঠোঁটের কোনে লাগিয়ে রাখো।
তাই সাধ গেল বড় তোমার ওই গঙ্গা-যমুনাকে বের করে নিয়ে আসতে।
আলতো স্পর্শ আর অনেকখানি হৃদয় মেলে দিলাম।

তুমিও উজার করে দিলে, কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠতে উঠতে দেখলাম -
আমার বড় সাধের গন্ধরাজ গাছখানাকে তুমি সমূলে উৎপাটিত করেছ।
আসলে আমি বড় মূঢ়মতি তোমাকে ধারণ করি, স্নাত হই,
তোমাতে অবগাহন করি সে আমার ক্ষমতা নয়।
অথচ সরল এ সত্য আমার মরমে কেন যে পশে না - তুমি কি এর উত্তর জানো বৃষ্টি?