ফুল ফোটানোর স্বপ্ন যে চোখে
ঘুমের দেশটা চায় না সে,
রক্তগোলাপ ফুটেছে হাজার
বিষবৃক্ষের আড়ালে যে।
লক্ষ প্রদীপ জ্বালা হলো কই
কোটি কণ্ঠের কলরব,
ঝরালো আগুন নেকড়ের চোখ
রক্তগোলাপ হলো নীরব।
যে প্রান্তর তার সীমানা প্রাচীর
ধ্বংস করতে উদ্যত শির,
ঘাতকের হাতে মৃত্যুর ছায়া
বিশ্বাসীদের ভাঙতে নীড়।
নীল নীলিমায় সূর্যের আলো
ঝাপসা মাঠের সীমান্তে,
ঘুমিয়ে আছে বীর সেনানীর
আলোর প্রভাতে একান্তে।
ভেরী বাজে তার লক্ষ প্রাণের
পথে পথে ঘোরে ছদ্মবেশ,
মুখোমুখি তার মুখোশের ছবি
আবডালে আছে চিকনকেশ।
মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে শব
ঠিকানার খোঁজে বারংবার,
আঁধার আঁকড়ে বেঁচে থাকাটাই
জীবনের গানে কণ্ঠ তাঁর।
ধরনীর মাটি রাঙিয়েছে সেনা
হোলি উৎসবে মানুষ খুন,
অনাহারে মারে শিশুদের ভাত
ক্ষুধা মেটানোর ক্ষিপ্ত তূণ।
জল্লাদের ছুরি শানিত চেতনা
ভয়ংকরের প্রলয়গ্রাস,
মারমুখী রূপ নারী-পুরুষের
ভাসছে বাতাসে ক্ষুধার ত্রাস।
বণিকের হাত ধ্বংস কাঁটায়
ত্রাহি ত্রাহি দশা দিক্বিদিক,
তরবারি আর বুলেট শাসনে
চায় ওরা কারও পক্ষ নিক।
ঝরে গেছে কত রক্তগোলাপ
তবুও গোলাপ ফুটতে চায়,
শোষণের ঘানি যতই পিষুক
অবিশ্বাসীর মুক্তি নাই।
পূর্ব আকাশে উঁকি দেয় রবি
রক্তগঙ্গা বইছে জোর,
এখনো ঘুমিয়ে আছিস কেন রে
রক্তগোলাপ ফোটেনি তোর?
