কবিতা

লক্কা পায়রা



হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়


অলোকরঞ্জন জার্মানিতে, তিনি আর ফিরে আসবেন না,
বিনয় মজুমদার ঠাকুরনগরে তিনিও আর ফিরে আসবেন না,
সুনীলহীন ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন খাঁ খাঁ করছে
আজ সেখানে দু' হাজার বারো থেকে দুর্গাপুজো হয়না,
অষ্টমীর রাতে তিনি বৈরাগী হয়ে
দিকশূন্যপুরে চলে গেছেন...

খুব অল্প বয়েস থেকেই
শক্তির কলমে উঠে আসত মৃত্যুচেতনা
যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো... ভাবনা...
জীবনানন্দ তাঁর প্রিয় কবি
উপমাই কবিত্ব... যিনি বলেছিলেন
অপত্য কবি হিসেবে শক্তি তা অক্ষরে অক্ষরে
পালন করে গেছেন সারাটা জীবন কিন্তু হৃদয়ে
ছিলেন সেই রবিঠাকুর...
তাই শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জে বাংলা কবিতায়
আধুনিকতা বোঝাতে বোঝাতে
তিনি কেন নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন আমরা কেউ জানি না,
আর কলকাতায় ফিরবেন না এরা কেউ

এখন বাংলা আকাদেমি চত্বর শুনশান
কোনো কবি নেই, নেই কোনো রাখাল
নন্দনের পাশের জলাশয়টিতে নিস্তরঙ্গ জলের উপর কুয়াশার সর...
শুধু একজন ছিলেন তাও ভীষ্মের মতো, অভিভাবকের মতো বন্ধুর মতো
যতোই বলা হোক মূর্খ বড়ো সামাজিক নয়
তবু কে না জানতো
তাঁর হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়
তিনিও এখন স্বর্গলোকে, হয়তো বা তিমিরবরণদের
ক্লাস নিচ্ছেন, বোঝাচ্ছেন তাঁর স্বাভাবিক ঢং-এ
মাত্রাবৃত্ত থেকে পয়ারের অভিক্ষেপ...

শুধু এই যা লক্কা পায়রা 
থেকে লুচ্চা কবুতরের
পার্থক্য তাঁকে আর বোঝাতে হলো না...