বিবিধ

বটবৃক্ষ



পল্লব রায়


রাজপথ সম্প্রসারণের কাজ চলিতেছে বহুদিন ধরিয়া। আশেপাশের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট সব ভাঙা পড়িতেছে একে একে। চারিদিকে মানুষ-জনের হা-হুতাশ শোনা যাইতেছে, কিন্তু কিছুই করিবার নাই, জনহিতার্থে কর্মযজ্ঞ বলিয়া কথা। হঠাৎই কোনো একদিন কোনও এক জায়গায় কর্মকাণ্ডটি সাময়িক ভাবে থামিয়া যায়। কারণ আর কিছুই নহে, ছোট্ট একটি কালী মন্দির। বহু পুরাতন, প্রায় অর্ধ শতাব্দী প্রাচীন এক বটবৃক্ষের তলদেশে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির সেটি। বটবৃক্ষটি হইতে প্রচুর ঝুরি নামিয়া মন্দিরের একাংশকে আবৃত করিয়া ফেলিয়াছে, তথাপি প্রতিদিনে না হইলেও মাঝে মধ্যে মায়ের পূজা হয় সেইখানে। ঐ স্থানের কর্ম সাময়িক ভাবে স্থগিত হইয়া বাকী অংশের কাজ চলিতে লাগিল। বৎসরান্তে সকল কর্ম সমাপন হইলে হঠাৎই একদিন লক্ষ্য করিলাম, মন্দিরে ঐ পরিসরের বেশ কিছু পশ্চাতে রাজপথের সীমানা ছাড়াইয়া এক অন্য পরিসরে নবরূপে আরেকটি মন্দির গড়িয়া উঠিতেছে। এইরূপই একটি ঘটনার প্রত্যাশী ছিলাম। মন্দিরই হউক বা মসজিদ উভয়েরই কিন্তু একটি রক্ষাকবচ রহিয়াছে, ধর্মীয় রক্ষাকবচ। তাই এইরূপ ঘটনা যে ঘটিবে সে ব্যাপারে সংশয়াতীত ছিলাম।

কতিপয় দিবস অতিবাহিত হইবার পর নব নির্মিত মন্দিরে মা কালীর বিগ্রহেরও প্রতিষ্ঠা হইয়া গেল। এক ভগ্নপ্রায়, বিস্মৃতপ্রায় মন্দির রাজপথের সম্প্রসারনের কারণে সম্পূর্ণ নবরূপে অতি ধুমধামের সহিত পুনরায় গড়িয়া উঠিল ধর্মীয় তথা রাজনৈতিক রক্ষা কবচের কল্যাণে। এরূপ কোনও মসজিদ বা মাজারের ক্ষেত্রেও নিশ্চিতরূপে একই ঘটনা ঘটিত। যদিও চিন্তিত ছিলাম ঐ অর্ধ-শতাব্দী প্রাচীন বটবৃক্ষটিকে লইয়া।উহার তো কোনও ধর্মীয় রক্ষাকবচ নাই, স্বভাবতই কোনও রাজনৈতিক রক্ষাকবচও নাই। আর ঐ একটি মাত্র বটবৃক্ষকে লইয়া পরিবেশবিদ দিগের ভাবিবার সময়ই বা কোথায়? ঐ বৃক্ষটিকে যে অন্য স্থানে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নাই সে ব্যাপারে সন্দেহাতীত ছিলাম। যাতায়াতের পথে কয়েকদিন পরেই লক্ষ্য করিলাম বটবৃক্ষটিকে সম্পূর্ণ ভাবে ছেদন করা হইয়াছে, যদিও পুরাতন ভগ্নপ্রায় মন্দিরটি তখনও অক্ষত।

আলোকচিত্রঃ লেখকের কাছ থেকে প্রাপ্ত।