
আমাকে নেবেন আপনাদের দলে?
ঐ যে দোতলা বাড়িটা আম গাছের পাশে
আমি ঐ বাড়িতে থাকি।
ঐ জানালাটা দিয়ে আমি রোজ আকাশ দেখি,
গাছ দেখি, পাখি দেখি।
ঠিক সেই রকম আপনাদেরকেও দেখি।
দেখি আপনাদের কর্মকান্ড, দেওয়াল লিখন,
মিছিল, প্রতিবাদ। বেশ ভালো লাগে।
প্লিজ আমাকে নেবেন আপনাদের দলে?
আমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিতে পারি।
যেমন পাখি ছুঁড়ে দেয় তার ওড়ার ইচ্ছা নীল আকাশে।
আমি চেঁচিয়ে প্রতিবাদ করতে জানি,
আমার গলার জোর মেঘের ডাকের থেকেও বেশী,
শুনবেন - ই-ন-কে-লা-ব জিন্দাবাদ।
আশেপাশে বসে থাকা কাকগুলো কা-কা করে
আকাশে ছড়িয়ে দিল আতঙ্কিত প্রশ্ন।
হাল্কা নীলের ওপর কালো ছোপ ছোপ জলরঙের ছবি।
ইনকেলাব শব্দের কম্পনে
বেজে ওঠে মন্দিরের ঘন্টা।
দেবতার চোখ থেকে চলে যায় কাঁচা ঘুম।
উপস্থিত সকলে ছেলেটার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে।
ছেলেটার হাঁটুর থেকে দুটো পা নেই।
হুইলচেয়ারে বসে।
দলের মধ্যে বয়স্ক ভদ্রলোক মণিদা এগিয়ে এলেন।
ছেলেটার দিকে ঝুঁকে চোখে চোখ রেখে বললেন
- নিশ্চয়ই তোমাকে আমাদের দলে নেব।
এই সময় তোমাকেই বড় প্রয়োজন।
বড্ড প্রাসঙ্গিক তুমি,
প্রাসঙ্গিক তোমার জোশ, তোমার জেদ,
কিছুক্ষণ থেমে মণিদা আবার বলল -
এখন বাড়ি যাও ভাই।
আকাশে কালো মেঘ জমেছে
এখনই বৃষ্টি নামবে।
আয় বৃষ্টি ঝেঁপে ধান দেবো... না আমাদের ধান নেই।
আমাদের ক্ষোভ আছে, রাগ আছে, প্রেম আছে,
প্রতিবাদ আছে আর আছে মাথার আগুন।
হুইলচেয়ারটা প্রতিবন্ধকতার চাদর সরিয়ে
ধীরে ধীরে সক্ষম হয়ে উঠছে।
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।
