কবিতা

ভুজ্জপত্রে লেখা নৈশ অভিযান



সোমা নন্দী


না জানি মহাতীর্থের আগে কত দীর্ঘ পদচিহ্নে মিশে আছে শুদ্ধ 'দ্রোহ' শব্দের স্বর! পুন্নামের ক্ষুধার্ত কাক কত না খেয়েছে চক্ষু, মুন্ডু, নাভি, নগ্ন নিম্নদেশ। কিন্তু যেখানে বাতাসে হয় বিনিময়, প্রকৃতি মানুষে। সেই বুক? হ্যাঁ সেই বুক, যা জ্যেষ্ঠ ধ্বনিতে ছিন্নমস্তার পায়ের রক্তজবা হয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে জয়ধ্বনি ছড়ায়। ভাষার আদিম থেকে উঠে এসে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর সমবায়ে মহাধ্বনির সম্মেলন জাগায়। সেই মহাধ্বনি ক্রমে ক্রমে এমন অর্থহীন মহিমায় সান্ধ্য অমরতার গবেষণাগারে গেঁজে উঠে শব্দহীনতার প্রতি তীব্র প্রীতিতে ঢলে যায় কিভাবে!

শুনেছি, সন্তান জন্মালে যেমন মায়ের বুকের অক্সিজেনও দ্বিগুণ শুদ্ধতায় পবিত্র হয়ে ওঠে, তেমনই আগে শব্দ দীক্ষা, পরে ধ্যান জন্মালে, শরীর গড়ানো ছায়াও সঙ্গোপনে আত্মায় লুপ্ত হয়ে 'ঈশ্বরী' হয়ে ওঠে। ঊনপাঁজুরে বুকে আক্রা বিদ্যুৎ না খেললে, 'দিনের মানুষ রাতের জানোয়ার' বয়োধর্মে জানিয়ে ছিল জননী। কুকুরও রাত্রি ভ্রমণের পরিধি ধেয়ানে প্রতিধ্বনি ছড়ায়। অথচ রমন, চৌর্য আর মৃত্যু প্রনয়নে ব্যবহৃত রাত্রি লোলুপ হিমেল সিঁদকাঠি গর্ভের ভিতর দশমাস, আর বাইরের চল্লিশ বছরের দাহকার্যে শোণিত সতীর্থ রৌদ্র তপ্ততা ভুলে শব্দ বিবাদী যজ্ঞের নিশ্চুপ চরু হয়ে যায় কিভাবে!

যদি সভ্যতাবিষাদে মগ্ন চৈত্যের স্তূপে, ছায়াহীন আয়ুষ্মান বেদনায় সিক্ত, রক্ত সমান প্রিয় ক্ষতে ফিরে আসে বয়স্ক বিবেক, ক্ষুধার্ত রাত্রির গিলে খাওয়া সময়, আর দৃশ্য দ্রাঘিমার আবিল দৃষ্টি। তবে তারিয়ে তারিয়ে দেখা - কিভাবে যামিনী আবেগে নিকোনো সাজঘরে রজনীর তনু জড়িয়ে রাত্রিজর্জর দংশিত পাপের সেঁকোবিষে ভরা ধমনী, পোষ মানা, লেজ নাড়া প্রাচীন জুয়াড়ি, প্রচোদয়াৎ ধীমহী অন্বয়ের সূর্য মুকুট ভেঙে ফেলে, সূর্য সন্ত্রাসে জেগেছিল যারা, তাদের বিদ্রোহী নিঃশ্বাসের অভিশাপ কুড়িয়েও প্রাতিস্বিক অভ্রান্ত প্রতারণার দানে জিতে যায় বারবার। তাহলে কি ভুবন মিস্তিরিও আজকাল কাজে ফাঁকি দেয়!