
ধপাস করে এসে মা ঠাকুরনের সামনে দেহখানি পপাত চ করিয়ে একটু দম নিল মহিষাসুর। সদ্য বাবার ছিলিম থেকে একটুখানি ধোঁয়া টেনে এয়েচে, এখনি পুরো প্ল্যানটা পেট খোলসা করে না বললে আর এ-বচ্ছর বলা হবে না।
- মা, আমি মর্ত্যে যাবো।
মা সদ্য কাঁচকলা সেদ্ধ বসিয়েছেন, গনুর জন্য। প্রচুর মোদক খেয়ে বেচারির পেট ছেড়েছে। এরমাঝেই এ উৎপাত!
- যাবি তো! এখনও কিছুটা দেরি আছে তো। আগে পাড়ার ছেলেপুলেরা বিরেন ভদ্রের গান চালাক তারপর যাবি।
- এখনি যাবো। বাবার ষাঁড়টা নিয়েই এসেছি।
- হঠাৎই খেপলি কেন?
- ওখানে এখন বিষম পরিস্থিতি তুমি যাওয়ার আগে একবার আমি নিজে সব দেখে আসি। অনুমতি দাও।
- যা তবে, আমার নাম স্মরণ করে।
পুজোর বাজার জমজমাট, অল্প স্বল্প বৃষ্টি হচ্ছে, কাদা, রোলের কাগজ আইসক্রিমের কাঠি সব মাড়িয়ে অসুর সোজা পৌঁছল এক চায়ের ঠেকে। অবশ্যই ছদ্মবেশে। অকম্মার ধাড়িরা দিনের অনেকখানি সময় এখানেই রাজা-উজির মারে, দেশদশের যাবতীয় হাল হকিকত এখান থেকেই জানা যায়।
- হরিশ কি বুঝছিস?
- আর কি বুইবো বলো, টাকাপয়সা দিয়ে যে চাকরি কেনা যায় বাপ-পিতেমোর আমল থেকে শুনি নি। বউ মরলে মেয়ের বয়সী কাউকে খেলনা কিনে দিয়ে ঘরে টাকা জমাতে হবে তাও জানি নি। পুজোর নামে একমাস ছুটি তাও তো দেখিনি আগে। আমরা তো বিলবই নিয়ে দোরে দোরে ঘুরে চাঁদা তুললাম তারপরেও যখন টাকা কম পড়ত, তোমরাই তো পকেট থেকে টাকা দিতে, তা দিয়ে হয়তো বিজয়ার রসগোল্লা আসত কিম্বা পরে ঢাকির দামটা হতো। সুখী ছিলাম গো কাকা। সুখী ছিলাম। শিড়দাঁড়াতে এতো চাপ ছিল না।
হালচাল যে ভালো না তা বুঝে মহিষাসুর চলল গ্রামের দিকে শহরের থেকে গ্রাম বেজায় সুন্দর। কাশ ফুটেছে, শিউলির গন্ধ, ছাতিমের সুবাস, নীলাকাশে মেঘের ভেলা। পাঁকে ফুটেছে কোকনদ।
- দেখো পুঁটির মা যা হয়েছে তা চেপে যাও। তাতে তোমাদের সকলের মঙ্গল। একটা ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দাও। ঘরের কথা পাঁচকান করে সকলের বিপদ ডেকে এনো না। কে বলতে পারে রাত-বিরেতে সাইকেল চালিয়ে ফেরার পথে তোমার কর্তা যদি ম্যাটাডোরে ধাক্কা খায়! পারবে তো উকিলের খরচ চালিয়ে সবদিক বাঁচাতে?
ক্লাবের সেক্রেটারি বেরিয়ে যেতেই ঘরে টাঙানো ক্যালেন্ডারে দুর্গার ছবির নীচে কেঁদে ওঠে পুঁটির মা।
তক্তাপোষের ওপর তখন পুঁটি শুয়ে। রক্তক্ষরণে, লজ্জায়, অপমানে, দেহটা সঙ্কুচিত হয়ে আসছে আপনা-আপনি। মৃত্যুকে ডাকলেই কি যম আসে?
বুকের ভেতর মোচড় দিচ্ছে মহিষাসুরের। এদিকে তার অমন সিক্সপ্যাক্স! জঙ্ঘাখানার সাইজ আর শিরার কারুকাজ দেখে কতো মেয়ে ফিদা! তার চোখে কি জল মানায়?
কৈলাশে ফিরেছে মহিষাসুর গায়ে যেন জোর নেই, হাত-পা অবশ।
- চলো মা শিগ্গির চলো, যে ত্রিশূল তোমাকে দেবাদিদেব দিয়েছিলেন তার প্রয়োগের সময় এসেছে। নিজে একবার স্বমূর্তিতে দাঁড়াও মা, খুলে ফেলে এই আটপৌঢ়ে সাজ, একবার রুখে দাঁড়াও মাগো। আসল অসুর নিধন হোক এইবার।
তুমিই পারো মাগো মর্ত্যকে বাঁচাতে।
কাঁদছে মহিষাসুর দৈত্যদলনীর কোলে মুখ গুঁজে। পরম মমতায় পিঠে হাত বোলাচ্ছেন দুর্গতিনাশিনী।
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।
