বিবিধ

ঘানির বলদ জনগণ, বাঁচতে শিখুক অনশন



অভিজিৎ রায়


৩০% ইনক্যাম ট্যাক্স দেবার পর ৪০% জিএসটি! একজন চা-ওয়ালার কাছ থেকে এরকম জুমলাই প্রত্যাশিত ছিল। জাতীয় সড়কের টোলে বার্ষিক পাশ ৩,০০০ টাকায় কিনে টোল ট্যাক্স আপনি কমাতেই পারেন, কিন্তু টোলের রাস্তার দুর্গতি লক্ষ্য করে দেখুন এবং ভাবুন যে কেন জিএসটি, ইনকাম ট্যাক্স ও রোড ট্যাক্স দেবার পর টোল দিতে আমরা বাধ্য এই ভাঙাচোরা জাতীয় সড়কে! স্কুলগুলো তুলে দেবার যৌথ প্রয়াস শুরু হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র তিন বছর পর দেশে আদৌ ১০% সরকারি স্কুল বেঁচে থাকবে কিনা সন্দেহ। কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমে এসেছে ২০%-এ। এদের মধ্যে ১% নিয়মিত কলেজে আসে। কেউ কেউ পরীক্ষা না দিয়েও নিয়মিত পাশ নম্বর পেয়ে যাচ্ছে সরকারের তথ্য ভাণ্ডার গুলিয়ে দেবার প্রয়োজনে। স্কুল শিক্ষক থেকে প্রশাসনিক পদে শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে চাকরি হয়ে যায় শতকরা ৯০ ভাগ প্রার্থীর।

যারা জানে মেরুদণ্ড বিকিয়ে দেশ চালানোর চেয়ে বড় যোগ্যতা আর কিছু নেই এই দেশে। কবি থেকে নাট্যকর্মী, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক থেকে ছাত্র নেতা, বেঁচে থাকার একমাত্র লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছেন নিজেকে বিকিয়ে সরকারি ভাতায় বেঁচেবর্তে থাকা। স্বাধীন ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করা সরকার কি জানেন যে অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখতে গেলে জনগণের হাতে টাকার যোগান কেমন থাকা উচিত?

দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক কর্মীর পকেট ফুলে ঢোল হচ্ছে আর বিছানার তল থেকে মিলছে কোটি কোটি টাকা। রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীরা দিনে-রাতে মিথ্যে বলছেন এবং মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অথচ তাঁদের শাস্তির বিধান নেই। যে নাগরিকের ভোটে সরকার জিতছেন, সেই নাগরিক তার নাগরিকত্বের কাগজ খুঁজতে ব্যস্ত আর মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের যোগ্যতার মিথ্যে শংসাপত্র দেখিয়েও জেলের বাইরে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করে সংবাদ শিরোনামে।

বাণিজ্য সম্মেলন ব্যর্থ, 'মেক ইন ইন্ডিয়া' ভেক প্রমাণিত। চায়নার মাল দেশি প্যাকেজে বাজারের দখল নিচ্ছে আর দেশীয় শিল্প মার খাচ্ছে বসে বসে। কার তাতে কী? উদ্বোধনের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ব্রিজ ভেঙে পড়ার পর কোনও ঠিকাদার যেমন শাস্তি পান না, তেমনই বিভাগীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী।

পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশিয়েও পেট্রোল ডিজেলের দাম না কমিয়ে দিব্যি বিক্রি করছে সরকার এবং তার বন্ধু আম্বানি প্রতিদিন হাজার কোটি টাকা এক্সট্রা লাভ করছেন। আর সেই লাভের টাকায় দেশের ৮৫ শতাংশ মিডিয়া কিনে প্রচার চালানো হচ্ছে সরকার পক্ষের। সরকারের কাজ জনসেবা করা। এক্কেবারে স্বাভাবিক কাজ। অথচ, তারই বিজ্ঞাপন খরচ কখনও ছাড়িয়ে যাচ্ছে মূল প্রকল্পের খরচকেও।

তালি বাজান, থালি বাজান। ঘরে ঘরে নকল ওষুধ, নকল থানা, নকল কোর্ট আর নকল দূতাবাসের দেশে বসে আপনি শুধু ধর্মের নামে অধর্মের শিকার হতে থাকুন। সরকার আপনার দেওয়া ক্ষমতা এখন শুধু আপনাকে থামিয়ে রাখতে, দমিয়ে রাখতেই ব্যবহার করবে। জনগণ এখন আর ভোটের সংখ্যাও হয়ে নেই এই দেশে। ভোটে জেতার জন্য শাসকদলের আর তাকে প্রয়োজনও নেই। অপ্রয়োজনীয় অংশের মতো বাতিল হতে থাকা জনগণ এখন শুধুমাত্র টাকার জোগান দিতে তৈরি থাকুক। তোমার টাকায় রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন আর সেই যজ্ঞানলে তোমাকেই আহুতি দেওয়া হবে প্রতিদিন, প্রতিবার।

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।