কবিতা

খোয়াব কাহন কথা



নবনীতা দেবনাথ


সারা বছর খুচরো ইচ্ছেদের জমিয়ে মায়ের একসময় এক 'পাহাড়' ইচ্ছে জমতো যোগফলে।
হাতমোজা, মাফলার, কোল্ডক্রিম, প্যারাসিটামল, ভাজা মৌরির কৌটোটা আর আমরা।
অতঃপর..., মা হতো পাহাড়ী ঝর্ণা, বাবা খোদ পাহাড়, আর আমরা এদিক ওদিক ফুটে থাকা লাল নীল জংলি ফুল।

উরোঝুরো চুল ছেলেটি পুতুল পুতুল মেয়েটিকে কথা দিয়েছিল ভুল বুঝে মুখ ফিরিয়ে নেবে না কোনোদিন।
অথচ কথা রাখার দায় তো শুধু পাহাড়ের!

হঠাৎ হঠাৎ কান্না পেলে মেয়েটি এখনও পাহাড়ের বুকে এসে দাঁড়ায়।
শীত বাড়লে আরও একটু জড়িয়ে নেয় ধুলোরঙ পশমিনা।

বাউন্ডুলে নদী আর রাশভারী পাহাড় অনেক রাতে জ্যোৎস্না মাখে একসাথে।
পাহাড়ের ঢালু কাঁধে নদীটি যত্নে ফুলবাগান আঁকে, পশম বুকে লেখে বসতবাড়ি, কোলে রাখে সংসারের খুঁটিনাটি, চাবিকাঠি!

খরস্রোতা সুখে পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়লে, বেজে ওঠে জলের পিয়ানো।
পাহাড় জানে, বিচ্ছেদী শেষবেলায় সমুদ্র ঠিক নোনা করে দেবে তার প্রিয়তমার স্বাদু মন,
অস্তিত্বহীনতায় খোয়া যাবে খোয়াব-কাহন-কথা!

তবু এই যে কুড়িয়ে পাওয়া দু'আনার জীবন, তাই দিয়ে তার নদীটির পিঠে এঁকে দিতে সাধ হয় 'তারা ভরা আকাশের রাত'।
কবে যেন বাবারও ছুটি ফুরিয়েছে।

এইসব পশলা রূপকথাদের, সরীসৃপ পথের বাঁকে ফেলে রেখে আমাদের ফিরতে হবে চেনা মফস্বলে!
শেষবারের মতো পাহাড়ের বুনো বুকে পা ডুবিয়ে মায়ের হঠাৎ খেয়াল হয় বাম পায়ের নূপুরটা নেই!