
একটি পেয়ারার টুকরো তার শ্বাসনালীতে আটকে শেষ করে দিয়েছিল তার জীবন। কিন্তু অশেষ হয়ে রয়ে গেছে তার ফুটবলীয় সৃষ্টি, আপামর ভারতীয় ফুটবলরসিকের হৃদয়ে। যা ইতিহাসের মতই থেকে যাবে তাদের মনের গহীন কোণেও।
হাওড়ার অধিবাসী তিনি হাওড়ার সহযাত্রী ক্লাবে ফুটবলে পায়েখড়ির পরে ৭ বছর মোহনবাগানে (১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯২) আর ৫ বছর ইস্টবেঙ্গলে (১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৯০) - এই ১২ বছরেই নিজের জন্য স্থায়ী আসন সংরক্ষিত করে গেছেন, ভারতীয় ফুটবলের মহাফেজখানায়।

(বাঁদিক থেকে) সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ও তরুণ দে।

২৩ থেকে ৩৩ বছর, ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ ছিল তার দেশের হয়ে খেলার পরিধি। এশিয়ান গেমস, এশিয়ান কাপ, প্রি ওয়ার্ল্ড কাপ, প্রি অলিম্পিক, মারডেকা কাপ, সাফ গেমস, নেহরু গোল্ড কাপ, এই সব টুর্ণামেন্টেই তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৮৫র সাফ গেমস, ১৯৮৬র প্রি ওয়ার্ল্ড কাপ, এশিয়ান গেমস, মারডেকা কাপ, ১৯৮৫ আর ১৯৮৮র নেহরু গোল্ড কাপ আর ১৯৮৮র এশিয়ান কাপে। ১৯৯২র এশিয়ান কাপ ছিল দেশের হয়ে তার শেষ টুর্ণামেন্ট। ঐ সময়ে তার মত সফল ভারতের হয়ে খেলা ফুটবলার খুব কমই ছিল।


ওই ঐশ্বরিক স্ট্রাইড! ওই লম্বা নিখুঁত পাসিং! ওই অনিন্দ্যসুন্দর ট্যাকলিং! ওই দৃষ্টিনন্দন মাঠজুড়ে খেলা! ওই দলের প্রয়োজনে যে কোন পজিসনে খেলা! ওই গোলার মত ফ্রি কিকগুলো! ওই অনন্তর প্যাকেজ! আর হবে না। কখনো, কোনদিন।

'ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া'র প্রাক্তন আধিকারিক, কলকাতা ময়দানের চিরকালীন মিডফিল্ড জেনারেল সুদীপ চ্যাটার্জীর জন্য রইল এক মুগ্ধ সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর কুর্ণিশ।
মধ্য মাঠের দিগন্ত,
ছাড়িয়ে টুলু অনন্ত।
