মানুষ নিজেকে নিয়ে সব আগে ভাবে
যদিও সে জানে সে-ই প্রথমে হারাবে
নিজের হৃদয় আর নিজের শরীর
তারপর পাশ থেকে সরে যাবে ভিড়।
পথের দু'পাশে জমে থাকা ধুলো জানে
জীবন হারাবে সব প্রিয় অভিমানে।
অভিধানে লেখা থাকে সমস্ত প্রমাদ
শুধু পড়ে নিতে থাকা জীবনের স্বাদ।
স্বাদের শরীর জুড়ে নিভে গেলে আলো
মনের আকাশ জুড়ে অভিমান জ্বালো।
অভিমানে অভিমানে ক্ষুব্ধ মাঝরাত
নিজেকে আঘাত করে, চূড়ান্ত আঘাত।
ভোরের আলোয় ওড়ে মৃত্যুর খবর
নিজেকে জড়িয়ে ধরে সেই অবসর।
হৃদয়ের শোকে মাতে আবহসঙ্গীত
রাজপথে, বহুতলে অধরা সে শীত।
সে শীতের খোঁজ নিতে কেউ যদি আসে
তবে তাকে রেখে দিও এক্কেবারে পাশে।
কেউ যদি সব শীত ধরে রাখে বুকে?
তবে তাকে রাখবে কে আদরে ও সুখে!
নিজেকে সুখের ঘরে খুঁজে পেতে হলে
অনেক সময় শুধু যেতে হবে জ্বলে;
জ্বলে যাবে পুড়ে যাবে সমস্ত জীবন
অথচ সে কথা সব রাখবে গোপন।
গোপনে মানুষ শুধু নিজেকেই খোঁজে
আলোর শরীর ভাল অন্ধকার বোঝে;
অনেকে অনেক বোঝে নিজেকে বোঝে না;
জীবনের শুরু, শেষ সমস্ত অচেনা
পথ তার ভুল হয়, ভুল বারবার
আনন্দে থাকার পর কিছু দায়ভার
মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার সামিল,
জীবন এমন ছন্দে চলে সাবলীল।
চলে, থামে, ফের চলে, তারপর থামে
কিছু মেঘ অসময়ে বারান্দায় নামে।
বৃষ্টি পড়ে টুপটাপ, কখনও অঝোরে
বইছে কান্নার জল নীরবে ও জোরে।
সে স্রোতে কখনও বুঝি শ্রোতা বয়ে যায়!
কখনও বিরহ ছুঁতে মধ্যরাত চায়।
নিজেকে বাঁচিয়ে চলে ঘুমন্ত শরীর
হৃদয় আশ্রয় চায়, সাগরের তীর।
নোনাজলে ভেসে আসে অতীতের কীট,
জীবনের হাতে ধরা ছেঁড়া মার্কশিট।
মানুষের কাছে শুধু অযথা সঞ্চয়
শ্মশান চিতায় লেখা তার পরিচয়।
