মাটির গর্ভে যেখানে সময়ের ডিম পচে অনন্ত মৃত্যু মহড়ার শ্বাস পড়ে,
সেখানেই সৃষ্টির সূক্ষ্ম গহ্বরে ঘুরে চলে আদি ঘূর্ণির চাকা
মরিয়া কুমোরের হাত ধরে।
যার হাতের রেখা মানেই কোনো এক নক্ষত্রফুলের জন্মপথ।
ঠিক চাকা নয়,
সে ঘোরায় অনন্তের এক স্থায়ী ক্ষয়ের ভিতর বেঁচে থাকা আত্মা-আভাসের পেট।
সে জানে প্রতিটি ঘূর্ণনই এই ব্রক্ষ্মাণ্ডের সেই গোপন মন্ত্র - যা পুনর্জন্মের আদি সূর্য।
যার ঘামে গলে যায়
কুমোরটুলির সব দেবতার মুখোশ।
আর তার ছাই থেকে উঠে আসে এক অন্ধ মাটির বুদ্ধ।
কিন্তু তার এক এক কণা মাটির ইতিহাসের ফাঁকে ফাঁকে,
মহাজাগতিক ক্ষয়ের পিপাসা নিয়ে জেগে থাকে এক ক্ষুদ্র দার্শনিক পোকা।
যার পেটে জমে থাকে মৃত কালের ফসফরাস।
যার অকাল বোধনের দৃষ্টিতে শুকিয়ে যায় নদীর নাভি।
আর ভিজে ওঠে সংসারের কর্দমে আটকানো ঘ্রাণহীন বেঁচে থাকা।
আসলে সেও জানে,
মাটি আসলে এক জীবন্ত দেহ।
দেবতা কেবলই খড়ের ব্যানায় দেওয়া শুকনো মাটির প্রলেপ।
কিন্তু তার ভিতরে চুইয়ে পড়ে পচন।
যেমন ব্রক্ষ্মাণ্ডের তারাদের ভিতরে গলে যায় সময়ের পরাগ।
তাই কুমোরের মায়াবী আঙুলের নিচের চাকা,
যখন শেষ রেখাটি কাটে মাটির গায়ে ছায়ার বৃত্তে -
মৃত চাঁদের ধূলি দিয়ে গড়া ঈশ্বরও নিজের গহীনে কবর খোঁড়ে
আকাশের মতো ফাঁপা কিন্তু নিঁখুত অনুপস্থিতিতে ভরা নতুন ঘড়ার মধ্যে।
মৃত্যু-ছায়া খেয়ে বেঁচে থাকা সেই ক্ষুদ্র পোকাটিও তার ভিতরে এমন ভাবে প্রবেশ করে,
যেনো মৃত্যুই ঈশ্বর দেহের প্রথম প্রেমিক।
মহাকালের নরম ঈশ্বর তখন যতই মাটি ঘোরাক, আলো ঘোরাক,
ফাটল ধরা কলসি পাখনার গোঙানিতে শুধুমাত্র শোনা যায় - "আমি ই সেই মাটি,
যার ভিতর দিয়ে ঈশ্বরেরাও পচে যায়..."
