[একজন সৃষ্টিশীল মানুষ একদিন স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। প্রাত্যহিক জীবনের দ্বিধা দ্বন্দ্বে জীর্ণ জীবনকে এক নতুন রসের ধারায় নিজেকে সিক্ত করতে তার এই স্বেচ্ছানির্বাসন নাকি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে তা তিনি নিজেও জানেন না। অথচ তার এই নির্বাসনকালে তার জীবন ও লেখা বাঁক নেয় এক নতুন পথে। নিজের সৃষ্টিকে নতুন করে তিনি কি গ্রহণ করতে পারবেন নাকি বিসর্জন দেবেন অবসাদের গভীর অন্ধকারে? এই টানাপোড়েন নিয়েই লেখা অভিজিৎ রায়ের এই নতুন উপন্যাস "নিখোঁজ কবির ডায়েরি"।]
(তেরো)
অফিসের টেবিলের উপর নিজের কাঁধের ব্যাগটা রেখে চেয়ারে বসতে না বসতেই অঞ্জনার পাশে এসে দাঁড়াল সৌভিক।
- কোনও খবর পাওয়া গেল সৃজিতদার? সোহিনী কেমন আছে?
মেয়ে এখন ভাল আছে কিন্তু ওর কোনও খবর নেই। চেনা-জানা অনেকের কাছেই গেলাম কিন্তু কারোর সঙ্গেই কোনও যোগাযোগ করেনি ও।
- অদ্ভুত ব্যাপার। একজন পঞ্চাশোর্ধ বুদ্ধিজীবী ভদ্রলোক এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করতে পারে? কীভাবে পারে?
অঞ্জনা লক্ষ্য করল সৌভিক বুদ্ধিজীবী শব্দটার ব্যবহার সময়ে বিশেষ জোর দিল। কোথাও কোনওভাবে খোঁচা দেবার চেষ্টা করল বোধহয়। এই ব্যাপারটা আজও সহ্য করতে পারে না অঞ্জনা। সৃজিতকে সে যতই গালিগালাজ করুক না কেন অন্য কেউ কোনওভাবে সৃজিতকে অপমান করলে অঞ্জনা সহ্য করতে পারে না।
- ওই যে তুমি বললে না, বুদ্ধিজীবী। ওরা কি আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া দেবে? ওরা বরাবরই আলাদা। জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রে, যে কোনও সিদ্ধান্তে আলাদা। আর, ওরা আলাদা বলেই ওরা যে সব সৃষ্টিশীল কাজে মগ্ন থাকতে পারে আমরা সেগুলো করতে পারি না।
অঞ্জনা লক্ষ্য করল যে সৌভিক কষ্ট করে হেসে টয়লেটের দিকে এগিয়ে গেল। ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে ঢক্ ঢক্ করে বেশ খানিকটা জল খেল অঞ্জনা। তারপর টেবিলের উপর পড়ে থাকা ফাইলপত্রগুলো খুলে নিজের কাজে মন দিল সে। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই সোহিনীর ফোন।
- কী রে? কী হল?
- মা, তুমি আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবে?
- কেন রে? কী হল?
- তুমি এলে বলব। আমি সাড়ে তিনটেয় ফিরে যাব। তুমি একটু তাড়াতাড়ি এলে ভাল হয় খুব।
- আচ্ছা চেষ্টা করব। কিন্তু, তুই বাড়ি ঢুকেই খেয়ে নিবি। টেবিলের উপর সব চাপা দিয়ে এসেছি আমি।
- আচ্ছা মা। লাভ ইউ মা।
ফোন রেখে ফাইলের দিকে চোখ ফেরাতে গিয়ে অঞ্জনার চোখে পড়ল খবরের কাগজের হেডলাইন - 'সাধারণের জন্য দুয়ারে সরকার'। সঙ্গে সঙ্গে অঞ্জনার মনে হল - আচ্ছা অসাধারণের জন্য কী?
* * * *
অঞ্জনার মুঠো থেকে নিজের আঙুল ছাড়িয়ে নিয়ে সৃজিত মাঠের সবুজ ঘাসগুলো একটা একটা করে মাটি থেকে ছিঁড়তে থাকল আপনমনে। আর কিছুক্ষণ পরে অঞ্জনার দিকে তাকিয়ে বলল,
- দেখ অঞ্জনা সাধারণ অসাধারণের পার্থক্য বুঝি না। আমার ক্ষেত্রে তুমি বলতেই পারো যে সবার থেকে আলাদা। সেক্ষেত্রে আমি সহজে মেনে নিতে পারব। আমি অসাধারণ কী সাধারণ সে প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। হয়তো আমি মরে যাবার পর। সেক্ষেত্রে অবশ্য আরও একটা বিষয় ভাবতে হবে। আদৌ আমাদের এই ভাষাটা বেঁচে থাকবে তো ততদিন।
- দেখো সৃজিত, তুমি যা বলো তা আমি বুঝতে পারি না সবসময়। কিন্তু তুমি আলাদা বলেই তো তোমাকে ভালোবাসি। তোমার লেখাগুলো আমার কাছে অসাধারণ মনে হয় বলেই হয়তো তোমাকে অসাধারণ ভাবি বা বলি!
- আসলে কী জানো? অসাধারণদের জন্য কেউ কিছু ভাবে না। তাদের আলাদা আলাদা ভাবনাগুলোর না দাম আছে, না কদর, যদি না তারা গিরগিটির মতো রং বদলাতে পারে। রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাছে জী হুজুরগিরি না করতে পারলে আলাদা মানুষের সব ভাবনা ফিকে হয়ে যাবে। কারণ, মিডিয়া আর রাষ্ট্রের আঁতাতের কাছে সক্রেটিস থেকে গ্যালিলিও - সবাই হেরে গেছে। আর সাধারণ মানুষের হুজুগের কাছে সব ভুলে যেতে পারে এমনকি তার খালি পেটের কথাও। এইসব ভাবতে ভাবতে আমার মনে হয় আমি পাগল হয়ে যাব। আমার জন্মের তারিখটা যদি বছর পঞ্চাশ পিছিয়ে যেত তাও না হয় একটা সুযোগ থাকত। এখন শুধুই হতাশা।
অঞ্জনা খিলখিল করে হেসে ওঠে।
- কী যে বল তুমি? পাগল হতে আর বিন্দুমাত্র বাকি নেই তোমার। তোমাকে সহ্য করতে করতে যদি আমি অসাধারণ হয়ে যেতে পারি তাহলে মনে হয় তোমার এইসব ভাবনাচিন্তা ভ্যানিস হয়ে যাবে। তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। তোমাকে আর কিছু ভাবতে হবে না। আমি সব সামলে নেব। তুমি শুধু লিখে যাও। যা ইচ্ছে তাই লেখ। যে লেখার জন্য পাঠকেরা তোমার কথা বলবে, তোমাকে কারও কাছে গিয়ে হাত পাততে হবে না। আমি জানি তুমি পারবে।
- পারব কি না জানি না।
হাত থেকে ছেঁড়া ঘাসগুলো ছুঁড়ে ফেলে হাত ঝেড়ে ফেলে অঞ্জনার আঙুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরল সৃজিত। অঞ্জনা তার আঙুলগুলো ধরে চুপ করে বসে রইল। পড়ন্ত সূর্যের আলোয় মাঠের পাশের ঝোপে সৃজিতের চোখে পড়ল সেই চেনা গিরগিটিটাকে। উঁচু করা মাথা নিচু করে দৌড় লাগালো গিরগিটিটা। সৃজিত সেইদিকে তাকিয়ে থাকল। অঞ্জনা সৃজিতের মুখের দিকে। পড়ন্ত সূর্যের আলোয় সৃজিতকে একদম অন্যরকম লাগছে তার। এক্কেবারে অন্যরকম সৃজিত। যেন যুদ্ধ জয় করে ফিরে এলো এইমাত্র।
* * * *
- অঞ্জনাদি, সাহেব এক্ষুণি এই ফাইল দুটো ছেড়ে দিতে বলল। অফিসের পিওন প্রদীপ তার টেবিলের উপর ফাইল দুটো ছুঁড়ে ফেলার আওয়াজে অতীতের স্মৃতি থেকে বাস্তবে ফিরে এলো অঞ্জনা। যদিও সৃজিতের ফিরে আসার কোনো খবর নেই। সাধারণের জন্য অসাধারণ হতে না পারার ব্যর্থতার নোনতা স্বাদ চোখে নিয়ে অঞ্জনা ফাইল খুলে কাজে মন দেবার চেষ্টা করতে লাগল। সোহিনী তাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথা বলেছে। কাজেই তাকে তাড়াতাড়ি ফাইলগুলো কমপ্লিট করতে হবে এই তাড়া ভেতর থেকে সে অনুভব করতে লাগল।
সৃজিতের বাড়ি ছাড়ার পর অঞ্জনা অনুভব করছে যে সে সোহিনীর ব্যাপারে বেশি সচেতন হয়ে গেছে। মেয়েটার অদ্ভুত ন্যাওটা ছিল বাবার অথচ বাবা কারোর জন্য কিছু ভাবল না। স্বার্থপর মানুষ একটা। অসাধারণ মানুষগুলো কি এমনই স্বার্থপর হয়? মাথার ভিতর প্রশ্নটাকে জিইয়ে রেখে ফাইলে চোখ দিল অঞ্জনা।
(চোদ্দো)
- আপনার কোনও এক সাক্ষাতকারে পড়েছিলাম যে, আপনার মতে যে কেউ কবিতা লিখতে পারে। সত্যিই কি এমন হতে পারে? কীভাবে সম্ভব?
মধুপর্ণা ব্যালকনির চেয়ারে বসে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল সৃজিতের দিকে।
- তোমার কী মনে হয়? কবিতা কি কোনও শিল্প নয়? যদি শিল্প হয় তাহলে অন্যান্য সমস্ত শিল্প শেখার মতো করেই তুমি কবিতা লেখা শিখতে পারো। প্রতিটা শিল্পের মতোই কবিতারও নিজস্ব নির্মাণ শিল্প আছে। আগে তোমাকে তা রপ্ত করতে হবে। যেমনভাবে লোকে গান শেখে, আবৃত্তি শেখে, নাচ শেখে তেমন করেই। আর অনেকেই যে বোধের কথা বলেন, সেটা তোমাকে রপ্ত করতে হবে অসংখ্য কবিতা পড়ে আর নিজের জীবন থেকে। যার জীবন যত কণ্টকময়, যত জটিল, যত আলো-অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয় তার পক্ষে তত সহজে উপমায়, চিত্রকল্পে অনেক গভীর কথা বলা সম্ভব। পাঠকের বুঝতে পারা বা না পারাও আবার কবির মতোই তার নিজস্ব বোধের অনুশীলন। তবে এইসব কথার ফাঁকে যে কিছু ফাঁকিবাজ নিজস্ব ফাঁকির পথ বেছে নিচ্ছে না এমন নয়। যার ফলে আমি শুধু এটুকুই বলি, যে মানুষ একই সঙ্গে কবিতার নির্মাণ কৌশল আর অবচেতনের বোধের অনুশীলন করতে থাকবে সঙ্গীতের রেওয়াজের মতন তার কাছে কবিতা লেখা ততটাই সহজ যতটা সহজ একজন অভিনেতার কাছে অভিনয়।
- অভিনয় বা গানের সাথে কি কবিতার তুলনা করা চলে?
- কেন নয়? যে শিল্প অন্য শিল্পকে তার মর্যাদা দিতে শেখে না সে কি আদৌ শিল্প হতে পারে? সমস্ত শিল্পের পথ এক। অবচেতনের অন্ধকারকে ছুঁয়ে অনুভব করা। আর, সেই অনুভবের জন্য অবশ্যই তোমাকে অনুশীলন বা রেওয়াজ চালিয়ে যেতে হবে। সস্তায় বাজিমাত করার কথা ভাবা অপরাধ যে কোনো শিল্পের ক্ষেত্রেই। কবিতার ক্ষেত্রেও। চেষ্টা করলেই সম্ভব আবার একই সাথে অসম্ভবও। অনেকেই গানের স্কুলে, নাচের স্কুলে, অভিনয়ের স্কুলে ভর্তি হয় কিন্তু গায়ক, নৃত্যশিল্পী বা অভিনেতা হয় কি? হয় না। কেন? কারণ নির্মাণকৌশল রপ্ত করতে পারলেও বোধের অবচেতনকে ব্যক্ত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। সম্ভব হয় না কারণ সাধনার ক্ষেত্রে একাগ্রতার অভাব। আর তাই, সবক্ষেত্রের মতোই অনেকেই কবি হতে পারেন না।
- দারুণ বললেন তো! আপনার এই অন্যরকম ভাবার ক্ষমতা আমার খুব ভালো লাগে। তাহলে আপনি নিজে একটা কবিতার ক্লাস খোলেননি কেন এতদিনেও?
- কবিতা শিল্পের ক্ষেত্রে প্রথম যে অভাব লক্ষ্যণীয় তা হল মান্যতার অভাব। অগ্রজরা নিজেদের আসন চিরস্থায়ী করে তোলার কৃত্রিম পথ অবলম্বন করার ফাঁকে অনেক ব্যর্থ কবিতা-লেখককে কবি বানিয়েছেন। অনেক ব্যর্থ কবিতা-লেখক আবার বাজার ধরার প্রচেষ্টায় প্রকাশক হয়ে ক্ষমতাশালীদের পা চেটে একটু আধটু কবি হবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। কাজেই আমি একা এই বোধ জাগ্রত করতে পারব না। কবিতার নির্মাণকৌশল শেখার ব্যাপারে আগ্রহী কিশোর, তরুণ আজকাল খুব কমই দেখা যায়। কেউ শিখতে চায় না। সবাই যা লেখে তাই ছাপাতে ব্যস্ত। আজকের জীবন আজ, এই মুহূর্তে বেঁচে নিতে ব্যস্ত। অথচ, তাদের লেখার ফাঁকি নিয়ে কথা বলতে গেলে তারাই আবার তোমায় জীবনানন্দ দাশ বা বিনয় মজুমদারের উদাহরণ দেবে। তাদের কবিতা নাকি এখনকার জন্য নয়, ভবিষ্যতে তাদের কবিতা নিয়ে রিসার্চ হবে।
- এমন কি আদৌ হতে পারে? আপনার কী মনে হয়?
- হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। সমকালের জন্য কবিতা লেখা না হলেও কবি তো সমকালেরও। তাঁর কাজ অবচেতন রহস্যের ক্লু পাঠকের জন্য রেখে যাওয়া। আর সেটাও একধরণের নির্মাণ কৌশল। না শিখে তা সম্ভব নয়। আর, যাঁদের কথা এরা বলছে তাঁদের নির্মাণকৌশলের এক শতাংশও এরা শেখেনি, জানে না। কাজেই জীবনানন্দ বা বিনয় মজুমদারের গল্প শোনাতে শোনাতে এরা খুব সহজেই নিজেদের গল্প ভুলে যাবে।
- আপনার কী মনে হয় যে, আপনার এইসব বিতর্কিত কথার কারণেই কলকাতার গোষ্ঠীগুলো বা সরকারী আকাদেমি থেকে আপনি বাদ?
- বিতর্কিত কেন? অন্য কেউ এ কথা মানছে না তাই? সে তো সক্রেটিসকেও তার আমলে মানা হয়নি! এটা আমার মতো। তার অনেক যুক্তি আছে। সব হয়তো তুমি বুঝতে পারবে না। কারণ, কবিদের গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট এ সবের রাজনীতি এখন ক্ষমতার রাজনীতির খুব কাছাকাছি। সবাই নিজের নিজের বৃত্ত রচনায় ব্যস্ত। এবং সেই বৃত্তের কেন্দ্র হবার ধান্দায় ব্যস্ত। এরমধ্যে অদ্ভুতভাবেই কবিতা ব্রাত্য হয়ে পড়েছে। কবিতা এখন অন্যান্য আরও অনেক কিছুর মতোই এক হুজুগ বা উৎসব। নিভৃতের সাধনা, আরাধনা, রেওয়াজ - এসব শুনলেই কবিতা-সিন্ডিকেটের নেতারা তেড়ে আসছেন। আমি তাই পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছি। তবে, নিজের থেকে নিজে পালাইনি আমি। আমি নিভৃতের সাধনায় মগ্ন হয়ে লিখে রাখতে চাই আমার বোধ, আমার অবচেতন। তার জন্য আমার মৃত্যুর পরে কেউ আমাকে মনে রাখল কিনা তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কারণ আমি জানি আমার নিকট আত্মীয়, স্বজনেরা এইসব কবিতা, গল্প, উপন্যাস নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন। প্রাত্যহিকের জীবনযন্ত্রণায় তারা বিদ্ধ এবং সেই ক্ষতের উপশম আমার লেখালিখির ভেতরে তারা পান না তাই আমার এই শিল্প তাদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক। যে পাঠক বা পাঠিকার কাছে এই সাহিত্য ক্ষতের প্রলেপ একমাত্র তারাই আমাকে মনে রাখবেন, আলোচনায় রাখবেন, বাঁচিয়ে রাখবেন। তবে এমন কেউ আছেন কিনা বা হবেন কিনা তা আমি জানি না বা জানতেও আগ্রহী নই।
মধুপর্ণা ব্যালকনির ধার থেকে এগিয়ে আসে সৃজিতের চেয়ারের দিকে। তারপর বলে,
- উফ্ আজ একটা বড় জিনিস মিস্ হয়ে গেল। ভিডিও ক্যামেরাটা অন করে আপনার সঙ্গে কথা বললে দারুণ হতো। এরকম একটা কবিতার ক্লাস খুব দরকার এখনকার দিনে।
- দরকার কথাটা খুব আপেক্ষিক মধুপর্ণা। কিছুই দরকার নেই আবার সব কিছুই দরকার। এই দরকার শব্দটা একটা চক্রব্যূহ। এই শব্দের ভিতরে ঢুকে পরেই আমি আর বের হতে পারিনি বহুদিন। এই যে বেরিয়ে এসেছি, এই বের হতে পারাটা যদি আগে হতো, অনেক আগে তাহলে ভাল হতো খুব। অনেক অভাব, অভিযোগকে অন্য নজরে দেখতে পারতাম। হয়তো লিখে রাখতেও পারতাম। কিন্তু সে আর সম্ভব নয়। তাই বেরিয়ে আসার পর আবার ঢুকে পড়ার কথা ভাবি। দরকারের মধ্যে ঢুকে পড়া একটা ছোট কাজ অথচ অদরকারী জীবনকে তাচ্ছিল্য করাটা অপরাধ। সেই অপরাধ আমি করেছি। এখন তার শাস্তি পাচ্ছি। হয়তো আমি, হয়তো আরও কেউ কেউ। যারা ভুল করে তাদের জীবন আমার সাথে জড়িয়ে ফেলেছিল! তাই না?
উত্তরের অপেক্ষা না করে সৃজিত সিগারেট ধরিয়ে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায়। "শ্যামলাল, শ্যামলাল..." নাম ধরে দু'বার ডাকে। কোনও সাড়া পায় না। আবার উঠে আসে ব্যালকনিতে। মধুপর্ণা নিজের ঘরে ঢুকে পড়েছে ততক্ষণে। একটা বিরাট অদরকারী কাজ সেরে সৃজিত নিজের ঘরে ঢুকে পড়ল।
(ক্রমশ)
