স্থানীয় খবর

সংবাদদাতা - সর্বাণী ঘড়াইঃ আজ উনিশে জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার। 'নীলাক্ষর' পত্রিকা আয়োজিত কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল সভা ঘরে বিকেল ৪টায়। অনুষ্ঠানটি দুর্দান্তভাবে সফল হলো। অনুষ্ঠান সূচনায় ছিলেন সম্পাদক পঙ্কজ মন্ডল। সম্পাদক অতিথিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ করেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কবি নৃপেন চক্রবর্তী, কবি তাপস রায়, কবি অনীক রুদ্র, কবি অরুণাংশু ভট্টাচার্য, কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য, কবি নীলাঞ্জন কুমার। প্রথমেই গান দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। গানটি পরিবেশন করেন কবি নীলাঞ্জন কুমার। এরপর বই প্রকাশ অনুষ্ঠান। পঙ্কজ মন্ডলের কবিতার বই "চাঁদে আঁকো যুদ্ধ" উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। পঙ্কজ মন্ডলের কবিতা নিয়ে বলেন কবি নীলাঞ্জন কুমার, কবি দেবজ্যোতি রায়, কবি অরুণাংশু ভট্টাচার্য, কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য ও কবি নৃপেন চক্রবর্তী। এরপর শান্তনু গঙ্গারিডির গল্পের বই উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। বইটির নাম "দিঘিরপাড় নদীর পার"। এরপর কবি বিনয় মজুমদার পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান সূচিত হয়। কবি বিনয় মজুমদার পুরস্কার গ্রহণ করেন কবি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়, নীলাঞ্জন কুমার এবং কবি দেবজ্যোতি রায়। অতিথিবৃন্দ কবিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর কবিরা তাদের পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়ে কিছু কথা বলেন। এই পর্ব সমাপ্ত হলে নীলাক্ষর পুরস্কার অর্পণ করা হয় তিনজন কবির হাতে। কবিরা হলেন শান্তনু গঙ্গারিডি, কবি পঙ্কজ মান্না, কবি রণজয় মালাকার। শ্রদ্ধেয় কবিরা তাদের অনুভূতির কথা উপস্থিত শ্রোতাদের জানান। এরপর আরেকটি গান করেন কবি নীলাঞ্জন কুমার। কবিতা পাঠ করেন কবি অমিত বিকাশ দে, কবি শ্যামল কান্তি মজুমদার, কবি জগন্ময় মজুমদার, কবি সুব্রত সিংহ, কবি স্বপন পাঁজা, কবি রীতা মিত্র, কবি নন্দিতা সেন বন্দোপাধ্যায়, কবি সৌমিত্র মজুমদার, কবি অভিজিৎ বিশ্বাস, কবি স্বরূপ ভৌমিক, কবি সর্বাণী ঘড়াই, কবি প্রবীর মন্ডল, কবি শ্রীময়ী চক্রবর্তী, কবি সুধাংশু রঞ্জন সাহা, কবি কাজল চক্রবর্তী, কবি শাকিল আহমেদ, কবি মিলি দাস, কবি অমিত গোলুই। কবি অদীপ ঘোষ বক্তব্য রাখেন আবেগ ঘন শব্দে। কবি নৃপেন চক্রবর্তী পাঠ করেন পঙ্কজ মন্ডলের কবিতা, কবি মিন্টু বাড়ৈ পঙ্কজ মণ্ডলের কবিতার উপরে যথাযথ বক্তব্য রাখেন এবং পঙ্কজের দুটো কবিতা আবেগঘন ভাষায় পাঠ করেন। কবি শ্রীময় চক্রবর্তী খুব সুন্দর একটি গান পরিবেশন করেন। কেয়া দেবনাথ স্বরচিত গান পরিবেশন করেন। কেয়া দেবনাথের গায়কী খুবই উঁচু মানের। মিলি দাস খুব সুন্দর কবিতা পাঠ করেন। সর্বোপরি অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে পঙ্কজ মন্ডল একটি কবিতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি ভীষণভাবে সার্থক।
গতকাল সাহিত্য একাডেমী আয়োজিত লিটল ম্যাগাজিন মেলায় রবীন্দ্র সদন প্রাঙ্গনে রবীন্দ্রনাথের প্রতিমূর্তির নিচে তূর্য পত্রিকা উদ্বোধন হলো। উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতীর অধ্যাপক ডক্টর সুরঞ্জন মিত্র, বাংলা অ্যাকাডেমির শ্যামল বেরা, বর্ধমান ইউনিভার্সিটি ইন্দ্রজিৎ রায়, রামকৃষ্ণ মিশন নরেন্দ্রপুর সাহিত্যিক সুশীল মন্ডল, কবি কেশব রঞ্জন, কবি নিবিড় সাহা, সম্পাদক দীঘলপত্র সুদর্শন কাটুয়া, সম্পাদক মৃদঙ্গ রমেশ কর্মকার, কবি শম্পা গুপ্ত আরো অনেক বিশিষ্ট গুণীজনের উপস্থিততে তূর্য পত্রিকার উদ্বোধন হলো। এই শুভ মুহূর্ত লিটিল ম্যাগাজিন মেলায় সাক্ষী বহন করবে আগামী প্রজন্মের কাছে।






-
পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি

সংবাদদাতা - সমীরণ ভৌমিকঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর নিকটবর্তী গ্রাম জকপুরে অবস্থিত অত্যন্ত ব্যতিক্রমী নার্সারির নাম, 'পুষ্পাঞ্জলী প্রণবীর নার্সারি'। ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গে এই জকপুর 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি' একটি বড় প্রায় ৩০০০(তিন হাজার) শ্রেণীর গোলাপ ফুলের ও রংবেরঙের বাহারি ফুলের নার্সারি, যার মালিক হলেন ফুল, ফল বিশেষজ্ঞ প্রণবীর মাইতি। তিনি একজন ভারত বিখ্যাত গোলাপ ফুল বিশেষজ্ঞ এবং নানা রকমের সিজন ফুল ও ফলের অলরাউন্ডার, সফলতম নার্সারি ব্যবসায়ী। প্রোপ্রাইটর প্রণবীর মাইতি হলেন গোল্ড মেডেলিস্ট 'ইন্ডিয়ান রোজ ফেডারেশন' (IRF)'২০১৭। যেটি প্রদান করেছেন এক্স গভর্নর অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল কেসরী নাথ ত্রিপাঠী, আলিপুর হর্টিকালচার সোসাইটি, কলিকাতা। এই 'পুষ্পাঞ্জলী প্রণবীর নার্সারি' ইংরেজির ১৯৭৭ সালে প্রায় ১২ একর জায়গা জুড়ে এই গোলাপময় গ্রাম ও বাহারি ফুল ও ফলের গ্রাম রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আমি ও আমার বন্ধু শ্রদ্ধেয় তপন মন্ডল মহাশয় উপস্থিত ছিলেন। আমাদের খুবই পরিচিত দিল্লি হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট রাহুল কুমার ছিলেন, ছিলেন আমার আর এক সুপরিচিত ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসের প্রাক্তন অফিসার এস এস জোশান(IRS), যাঁরা দিল্লি থেকে তাঁদের পরিবার নিয়ে এই জকপুর 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি' দর্শন করতে এসেছেন। এছাড়াও এই নার্সারিতে ফুল কিনতে আসা ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, বড় বড় প্রাইভেট সেক্টর ও প্রাইভেট কোম্পানি এবং ফুল ও ফল পিপাসু দর্শনার্থীদের ভিড়ে গমগম করছিল এই জকপুর 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি'। তখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই চিরন্তন গানটির কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় "ক্ষুদ্র দুঃখ সব তুচ্ছ মানি-প্রেম ভরিয়া লহো শুন্য জীবনে। আনন্দধারা বহিছে ভুবনে"। ফুল হল প্রেম ও পবিত্রতার প্রতীক। তাই প্রেম, ভালোলাগা ও ভালোবাসার পুরানো দিনের গানখানি আমাদের স্মরণ ও মনন করিয়ে দেয় 'খোঁপার ওই গোলাপ দিয়ে- মনটা কেন এত কাছে আনলে? পারবে কি বাসতে ভালো আমাকে জানলে? যেখানে নানা রংবেরঙের ফুলে সজ্জিত এই বর্ণময় 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি'।এই পুষ্পাঞ্জলি নার্সারির মালিক শ্রদ্ধেয় প্রণবীর মাইতি মহাশয় পশ্চিমবাংলার বহু ছোট ছোট নার্সারি মালিকদের, নানা রকমের ফুল ও ফলের গাছ অতি রিজনেবল প্রাইসে তাঁদের প্রদান করেন এবং কিভাবে এই গাছগুলি লাগানো হবে, কি কি সার, কীটনাশক দিতে হবে তিনি তা গাইড করেন।এই ৩০০০ প্রজাতির গোলাপ ফুলের মধ্যে যার ২৩০০ বিদেশি বৈচিত্রের গোলাপ ফুল, ৬০০ ভারতীয় বৈচিত্রের গোলাপ ফুল, ১০০ নিজেদের সৃজনশীল, অর্থাৎ ক্রিয়েটিভ বৈচিত্র্যময় গোলাপ ফুলের সমাহার দেখা যায় এখানে। এই নার্সারিতে চাষ হয় ডবল ডিলাইট গুড্ডু রোজ। যেটি ১৪ই ফেব্রুয়ারি'২০২৫ পিঙ্ক কালারের হাইব্রিড রোজ হয়ে যায়, যার ইংরাজি নাম 'GUDDU'। এছাড়া 'RUMKI' রোজ যেটি দেবাশীষ বড়াল ও শর্মিষ্ঠা চ্যাটার্জির উপস্থিতিতে উদ্বোধন হয়, যিনি মৎস্য দপ্তরের আইএএস অফিসার, যার ডাকনাম রুমকি, উনার নামে রুমকি রোজ। এছাড়াও 'বিশ্ব বাংলা রোজ', 'আরশাদ ভাই রোজ', 'কবিগুরু গোলাপ' 'লেভেন্ডার সিম্প্লিসি', 'ফ্লোরি বান্ডা রোজ', মাল্টি কালার রোজ যাকে 'MINI CHAR' Rose, 'কন্যাশ্রী গোলাপ', 'গ্যালাক্সি গ্লো রোজ' (Foreign H. T. Rose)। তাছাড়াও আনকমন গোলাপ 'ভোডাকম ল্যাভেন্ডা কালার ফ্লোরি বান্ডা রোজ' এই নার্সারিতে আছে। 'ওল্ড চায়না রোজ' যাকে ইংরেজিতে বলছে 'Old China Rose' যার বর্তমান মূল্য ১৮০০ প্রতি কেজি। এছাড়াও আছে প্রণবীর রোজ (H. T. Rose), কালার চেঞ্জ Bulls Eye Rose, আছে ইংল্যান্ড গোলাপ নামে পরিচিত - 'Devid Astrin Rose', আছে হল্যান্ড কানট্রির গোলাপ ROCK STAR'। ডিপ মেরুন কালারের গোলাপ যার নাম, 'Black Baccara Rose'। 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারিতে'আছে স্টাইলিস্ট রোজ ইংরেজিতে যাকে বলছে ' Vetarence Honour Best Rose'। আছে কাঁচা হলুদ রঙের গোলাপ 'মোহনা'। এছাড়াও এখানে হয় বহু সিজন ফুলের চাষ। এই সিজন ফুল বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ প্রস্তুত করা হয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক্সপোর্ট করার জন্য। এই নার্সারিতে একশোর বেশি ম্যাংগো ভ্যারাইটি অ্যাভেলেবল। তারমধ্যে বিশ্ববিখ্যাত আম যাকে ওয়ার্ল্ড ফেমাস আম 'মিয়াজাকি'(Egg Of Sun), আছে 'ব্যানানা' ম্যাংগো, 'কোহিনুর' 'আলফানসো' এবং 'CHINGMAI', গোলাপ খাস ইত্যাদি বহু প্রজাতির আম। এখানে আছে ২০ রকম প্রজাতির পেয়ারা। তার মধ্যে নামকরা থাইল্যান্ডের - Thai-7, Thai-5, Thai (Super 10), VNR, Golden-8, ভিয়েতনাম প্রজাতির 'কোকোনাট', আছে 'মালয়েশিয়ার ইয়োলো গ্রীন', আছে 'গঙ্গা বর্ধন', 'চৌখাট অরেঞ্জ', 'ইস্ট কোস্ট স্টাইল' পেয়ারা। বহু মূল্যবান ফলের চাষ এই নার্সারিতে হয়। তার মধ্যে আভাকাডো যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি কেজি ₹১২০০/-, কিউই, রামভুটান, পার্সিমুন জাপান, ড্রাগন ফুড, বিভিন্ন রকমের নারকেল গাছ আছে। এখানে আছে আরেকটি দর্শনীয় বিশেষত্ব। ৫০০ এর বেশি ইন্ডোর ভ্যারাইটি প্লান্টস। আছে ২০০ ফ্লাওয়ারিং প্লান্টস। এই 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারিতে' দর্শনীয় আরেকটি আইটেম বিভিন্ন রকমের অর্কিড, ড্যান্ড্রোবিয়াম, ফিনোলাপসিষ, ভান্ডা ইত্যাদি। এখানে আছে একটি বিশাল দিঘির মত স্বচ্ছ ৫ একর পুকুর। যেখানে আমাদের পশ্চিমবাংলার সমস্ত দেশি মাছের চাষ হয়। এই 'পুষ্পাঞ্জলী প্রণবীর নার্সারিতে '১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন মহিলা ও ৪০ জন পুরুষ শ্রমিক। গোলাপ দপ্তরে কাজ করেন একনিষ্ঠ শ্রমিক বিধান, শম্ভু, রঞ্জন ও গণেশরা। 'ইনডোর ফ্রুটসে' আছেন রাজু, চন্দন, মহাদেবদের মত এক্সপার্ট কর্মীরা। এছাড়াও বহু একনিষ্ঠ, কর্মতৎপর মহিলাকর্মীরা এখানে যত্নের সঙ্গে মন, প্রাণ দিয়ে কাজ করেন। এদের মধ্যে সাবিত্রী নায়েকদের মতো এক্সপার্ট মহিলা ও পুরুষেরা ফুল প্যাকিং কাজে যুক্ত। এই 'পুষ্পাঞ্জলি প্রণবীর নার্সারি' থেকে ফুলের চারা, প্লান্টস ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে অর্থাৎ কেরালা থেকে কাশ্মীর, মুম্বাই থেকে নাগাল্যান্ড এবং দিল্লী পর্যন্ত পাঠানো হয় ট্রাক, ট্রেন এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। এই মুহূর্তে আমরা স্মরণ ও মনন করি ঋকবেদের একটি প্রাচীন নীতি বাক্য যা গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের উপদেশ দিয়েছিলেন 'বহু জনহিতায় বহুজন সুখায় চ'। এলাকার দরিদ্র মানুষদের, তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে এই জকপুর 'পুষ্পাঞ্জলী প্রণবীর নার্সারি'র একটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা আছে। মহারাষ্ট্রের পুণেতে একটি ব্রাঞ্চ আছে। সেখানে ১০ জন লেবার কাজ করেন। যেটি দেখাশোনা করেন প্রণবীর মাইতি বাবুর ছোট মেয়ে-জামাই।
চেষ্টা ও উদ্যম থাকলে একটি চারা গাছ, কিভাবে একটা মহীরুহে পরিনত হয়, এই নার্সারি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আরো সাফল্যকে করায়ত্ব করার জন্য সময় হয়েছে এখন চাকুরীজীবি বাঙালিকে পথ খুঁজে নিতে হবে উদ্যোগপতি বাঙালি হিসেবে।








-
গ্রেস কটেজ নজরুল সম্মান - ২০২৫

সংবাদদাতা - ইনাস উদ্দিনঃ ৩রা জানুয়ারি, ২০২৬ ছিল কৃষ্ণনগর শহরে বিদ্রোহী কবির আগমনের শতবর্ষ পূর্তির দিবস। ১৯২৬ সালে হুগলি থেকে শারীরিক ও সাংসারিক ভাবে বিপর্যস্ত কবিকে সপরিবার কৃষ্ণনগরে নিয়ে এসে আশ্রয় দেন বিপ্লবী নেতা হেমন্তকুমার সরকার। প্রথমে তাঁদের পৈতৃক বাস ভবনে সাত-আট মাস, পরে গ্রেস কটেজ ভবনে কবি বসবাস করেন - মোট প্রায় তিন বছর।
এই ঐতিহাসিক দিবসকে স্মরণে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় কৃষ্ণনগরের সাংস্কৃতিক সংস্থা সুজন বাসরের আয়োজনে গোলাপট্টি হেমন্তকুমার সরকারের বাসভবনের সামনে থেকে গ্রেস কটেজ পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। নাম দেওয়া হয় 'মানবতার পথ-যাত্রা'।
এইদিন ২০২৫ সালের 'গ্রেস কটেজ নজরুল সম্মান' প্রদান করা হলো ১৯৬৭ সালে নজরুল অনুরাগী ও নিকটজনদের নিয়ে কবিপুত্রদ্বয় প্রতিষ্ঠিত 'অগ্নিবীণা' সংস্থার প্রতি। সংস্থার পক্ষে সম্পাদক চন্দ্রনাথ ব্যানার্জির হাতে স্মারক-সম্মান এবং মানপত্র তুলে দেন গ্রেস কটেজ সুজন পাঠাগার ও নজরুল গবেষণা কেন্দ্র-র মুখ্য উপদেষ্টা শহরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিবনাথ চৌধুরী।
সভাপতি দীপংকর দাস তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান।
স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন সহ-সভাপতি প্রদীপ বাগচি। এছাড়া পুষ্পস্তবক ও অন্যান্য বরণ কার্যে অংশগ্রহণ করেন রতন কুমার নাথ, গৌরী সাহা, সুফিয়া খাতুন, শোভনা দাস প্রমুখ।
অগ্নিবীণার পক্ষে সম্পাদকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আকাশনীল ভট্টাচার্য, প্রদীপ দত্ত এবং অরিন্দম দাস। তাঁরা কথা ও কবিতায় এই ঐতিহাসিক হেরিটেজ ভবনে তাঁদের অনুভূতি ও ভালো লাগার কথা তুলে ধরেন।
সভাপতি রবীন মুখার্জি শারীরিক কারণে এইদিন আসতে পারেন নি।
মানপত্র পাঠ করেন সুকৃতি ঘোষ।
সঙ্গে ছিলেন স্মারক-ভাস্কর্যের শিল্পী ঘূর্ণির বাপী দাস।
অগ্নিবীণা'র সম্পাদক চন্দ্রনাথ ব্যানার্জি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিস্ময়কর রকমের দূরদর্শী। একশো বছর পরেও তাঁর কথা, তাঁর ভাবনা, তাঁর লেখনী আজও সমানভাবে সমাদৃত। বর্তমান সময়ে আরও বেশি করে নজরুলকে তুলে ধরতে হবে - বিকৃত রূপে নয়, প্রকৃতরূপে। তাঁকে নিয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি। ভেদাভেদ ও বৈষম্যবিহীন মানবতার প্রকৃত আদর্শকে যথাসম্ভব আমাদের চর্চায় আনতে হবে।
অনুষ্ঠানে শঙ্খশুভ্র সরকারের নেতৃত্বে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশিত হয় - 'মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম'। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিলীপ পাণ্ডে, তাপস মোদক, প্রীতিকণা জোয়ারদার, ইনাস উদ্দীন প্রমুখ।
সুকৃতি ঘোষের পরিচালনায় 'কবিতাঘর' এর পরিবেশনায় ছিল 'কুলিমজুর' ও 'প্রলয়োল্লাস' কবিতা। এর বাইরে কবিতা পাঠ করেন সুশান্ত ঘোষ, রামকৃষ্ণ দে, গৌরী সাহা, অশোক মজুমদার প্রমুখ।
শিবনাথ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে নজরুল সান্নিধ্যে থাকা ব্যক্তিবর্গের স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। ডা. সঞ্জয় রাহা স্বল্প কথায় জোর দিয়ে বলেন - নজরুলকে নিয়ে নাগরিক শহুরে শৌখিনতা অনেক হলো। এবার যেতে হবে গ্রামে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইনাস উদ্দীন।






-
ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় (উ.মা.) ১২৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উৎসব ২০২৫

সংবাদদাতা - সমীরণ ভৌমিকঃ 'হিমেল হাওয়ার পরশ বুলায়ে/ কুহেলি চাদর ধরায় লুটায়ে/ এসেছে শীতের শীতল বেলা, সেই অবসরে উঠিয়াছি মাতি/ করিতে সোয়া-শত দীপারতি/রচিতে যে চাই মিলনমেলা'।পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ব্লকের অন্তর্গত ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয় (উ.মা)১২৫ তম বর্ষ পূর্তি উদযাপন উৎসব-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ০২.০১.২০২৬ শুক্রবার থেকে ০৩.০১.২০২৬ শনিবার পর্যন্ত। গত ০২.০১.২০২৬ শুক্রবার, সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুপুর ১.৩০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বিকাল ৫টায় বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান "মায়াবিনী"। পরিবেশনায় বর্তমান ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীবৃন্দ। আজ ০৩.০১.২০২৬, শনিবার, বেলা ১১ টায়- "চলে যেতে যেতে দিন বলে যায়" প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের সম্মেলন। দুপুর একটায় গুণীজন সম্বর্ধনা। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁশকুড়া ব্লকের শ্যামসুন্দর পাটনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক সম্মানীয়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গৌতম বোস মহাশয়। যিনি আজ উদ্বোধন করলেন ঘোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দোতলার একটি বড় হলঘরে 'Shree Jain Digital Library'। বিকাল ৩টায় অতিথি বরণ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঘোষপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সম্মানীয় প্রদ্যুৎ রায় মহাশয়। উপস্থিত ছিলেন পাঁশকুড়া ব্লকের বার্লিবার হাই স্কুলের (শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত) শ্রদ্ধেয় মানস রায় মহাশয়। উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় ডঃ পার্থ কর্মকার(W.B.Board Primary Education) আধিকারিক। ছিলেন মঞ্চে সম্মানীয় দেবাশীষ সরকার (O.S.T), উপস্থিত ছিলেন মাননীয় চিন্ময় সরকার, বর্তমান (W.B.B.S.E) বিভাগের আধিকারিক। উপস্থিত ছিলেন হাউর অঞ্চলের সম্মানীয়া ছন্দা জানা মন্ডল (প্রধান)। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয়া কলিকাতার সল্টলেক(লবণ হ্রদ গার্লস স্কুলের ) সহকারি প্রধান শিক্ষিকা স্বাতী কর্মকার। যিনি মঞ্চে বর্তমান স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সুললিত সুবক্তব্য এবং দর্শকদের অনুরোধে গেয়েছিলেন একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত। যা দর্শকদের মন কানায় কানায় ভরিয়ে তুলেছিলেন। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমান DRDO Scientist সম্মানীয় ডঃ বাপ্পাদিত্য জানা মহাশয়। যিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এবং মঞ্চে উপস্থিত গুণী ব্যক্তি এবং অতিথিদের উদ্দেশ্যে তাঁর ইংরেজিতে একটি জীবনমুখী, বাস্তববাদী বক্তব্য রাখেন। দুই দিন ব্যাপী মঞ্চে উপস্থাপিত অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র সুকদেব শাসমল মহাশয়। এই মুহূর্তে আমরা স্মরণ ও মরণ করি বিশ্ব মহামানব স্বামী বিবেকানন্দের জগৎবাসীর উদ্দেশ্যে সেই অমৃত বাণী "জীবনে এসেছ যখন একটা দাগ কেটে যাও"। সত্যিই দাগ কাটলেন সর্বোপরি শুরু থেকে আজকের শেষ দিন পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কর্মতৎপর, ঘোষপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক, শিক্ষারত্ন পুরস্কার প্রাপ্ত, সম্মানীয় সুপ্রতিম মান্না মহাশয়। যিনি আজকের মঞ্চের বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্যের পরে তাঁর কন্ঠে এবং সবাইকে নিয়ে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন 'আমি বাংলায় গান গাই।আমি বাংলার গান গাই। আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই' গানটি পরিবেশন করেন। বিকাল ৫.৩০ টায় অনুষ্ঠিত হয় একটি সুন্দর, মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা "মধুর ধ্বনি বাজে" চয়িত শিল্পী সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে হাউর, 'ঘোষপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উৎসব-২০২৫' সমাপ্ত হয়।





-
সল্টলেক রেনেসাঁর চড়ুইভাতি

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ২০২৫ সালের শেষ রবিবার ২৮শে ডিসেম্বর তারিখে বিধাননগরের অন্যতম জনপ্রিয় সংগঠন সল্টলেক রেনেসাঁর শীতকালীন বার্ষিক পিকনিক আয়োজিত হলো। মূলত সদস্য-সদস্যাদের পরিবারের লোকজন নিয়েই এই পিকনিক। বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্কুলের সামনে থেকে দুটি বাস সকাল ৭টায় পিকনিক এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মধ্যমগ্রামের একটি বাগানবাড়িতে পিকনিক আয়োজিত হয়। ছিলো নানান মজার খেলা ও সঙ্গে সঙ্গে জয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ। দুপুরে নানাবিধ খাবারের মাধ্যমে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। এক কথায় যাকে বলে এলাহি ভুঁড়িভোজ। সন্ধ্যায় কফি খেয়ে সবাই ৮টা নাগাদ ফিরে আসে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে। বিধাননগর এর অনেক মানুষ এই পিকনিকে অংশ নেন। সবাই সারাদিনের মজা, আনন্দের কথা দীর্ঘদিন মনে থাকবে বলে জানান। সম্পাদক রামানুজ চ্যাটার্জি বলেন, এবার থেকে প্রতি বছরের শেষ রবিবার এই পিকনিক আয়োজন করা হবে।








-
'করুণাময়ী সমন্বয় সমিতি'র উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিগত ২৮ ডিসেম্বর, রবিবার, সকাল ৮ টা থেকে মহাসমারোহে উদযাপিত হয় করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। পতাকা, ফ্লেক্স দিয়ে সাজানো ছিল ক্রীড়াক্ষেত্র। মোট ২৩টা ইভেন্টে সব বয়সের বালক, বালিকা, পুরুষ, মহিলাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। প্রায় ৩০০ প্রতিযোগী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। ৫ বছরের নিচে থেকে ৭০ বছরের অধিক বয়সের প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ইভেন্ট ছিল।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিল ৫ বছরের নিচে বালক, বালিকাদের ২৫ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতা। কেউ ফিনিশিং টাচের দিকে যাচ্ছে, কেউ দাঁড়িয়ে পড়ছে, কেউ মায়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে। সত্যি দেখার মতো বিষয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ১০ টায়, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হতে রাত ৮ টা বেজে যায়। মাঝে ছিল মধ্যাহ্ন ভোজনের জন্য কিছুক্ষণের বিরতি।
সারাদিন ব্যাপী এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, তাদের অন্যতম অজয় চক্রবর্তী, চিরদীপ গুপ্ত, সোমনাথ বোস, মনোরঞ্জন দাস, সুমিত ঘোষ, সাধন ঘোষ, ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়, সুশান্ত সেন, সুবল চন্দ্র দাস, অপু সেনগুপ্ত, সুশোভন মুখোপাধ্যায়, অশ্বিনী মন্ডল, মিত্রা ঘোষ, স্বপন চক্রবর্ত্তী, শৈলেন ঘোষ, মঞ্জুল কান্তি সরকার, অসীম হালদার, শুভজিৎ দত্ত, সাধন পাল, হৃষিকেশ জানা, জয়শ্রী বসু, পল্লবী মুখার্জি, নীলাঞ্জনা দে রায়, টিনা সিংহ, স্বাতী রায়, পিঙ্কি কুন্ডু, আশিস ধর, রাজা কুন্ডু, জয়ন্ত বসাক, সিদ্ধার্থ দত্ত, দীপেন রাজ, রাজকুমারী ব্যানার্জি, জয় দাসগুপ্ত, অসিত কুমার সিনহা, তপন দত্ত, বিপ্লবানন্দ চন্দ ও রঞ্জন পোদ্দার প্রমুখ।
যে তিনটি প্রতিযোগিতা ঘিরে সকলের আগ্রহ ও কৌতূহল প্রবল তাদের অন্যতম হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা, মিউজিক্যাল চেয়ার ও যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতা। বিগত ৬/৭ বছর কেউ হাঁড়ি ভাঙতে পারেনি, উল্টে অনেক ক্ষেত্রে দর্শকদের মাথা ভাঙার উপক্রম হয়েছিল। মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতায় এমন কোনো বছর যায়নি, যেখানে প্রতিযোগীদের অভিযোগ ছিল না, তাদের ওপর অবিচার হয়নি। এই খেলার এটাই বৈশিষ্ট্য। যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতায় মূলত বাচ্চারাই বেশি অংশগ্রহণ করে। পাখি পড়ার মতো বাচ্চাদের মায়েরা বাচ্চাদের শেখাতে থাকে তারা কী সেজেছে এবং বিচারকদের সামনে গিয়ে কি বলতে হবে। সব কি আর মনে থাকে? ভুল হলেই হাসির রোল।
করুণাময়ী সমন্বয় সমিতির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য ২৩ টি ইভেন্টের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কার দেওয়া ছাড়াও সকল প্রতিযোগীদের সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়। এবছর সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে সবাইকে কফি মগ দেওয়া হয়। সমস্ত অনুষ্ঠান শেষ হতে রাত ৮টা বেজে যায়। প্রচুর প্রবীণ লোকের ও নবীনের সমাবেশ জানিয়ে দেয়, আগামী বছর আরো বড়ো মাপের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।







