স্থানীয় খবর

  • গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে 'করুণাময়ী সমন্বয় সমিতি'র উদ্যোগে 'সমন্বয়' মাসিক ই-পত্রিকা ও 'শনিবারের আসর'-এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত হয় উচ্চমানের গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতবারের মতো এবারও ছয়জন গুণী লেখককে সংবর্ধিত করা হয়। গতবারের বিশিষ্টজনেরা হলেন ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়, ইলা রায়, বিশ্বজিৎ পন্ডা, চিরঞ্জীব হালদার, ইনাস উদ্দীন ও দেবাশিস সেনগুপ্ত। এ বছর যে সমস্ত বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের সম্মানিত করা হয় তাঁদের অন্যতম দ্বিজরাজ সান্যাল, অচিন্ত্য সাহা, অভিজিৎ রায়, মমতা বিশ্বাস, অমৃতাভ দে ও অনিন্দিতা মুখার্জি সাহা। যে সমস্ত লেখক, লেখিকারা 'সমন্বয়' মাসিক ই-পত্রিকায় নিয়মিত লিখে থাকেন, তাঁদের মধ্যে থেকেই ছ'জন লেখক, লেখিকাকে মনোনীত করা হয়।

অনুষ্ঠান শুরু হয় নীলাব্জা চ্যাটার্জীর উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে। এরপর স্বাগত ভাষণ দেন 'সমন্বয়' মাসিক ই-পত্রিকার সম্পাদক সুদীপ ধর। ওঁনার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, বিশিষ্ট লেখক-লেখিকাদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলী প্রকারান্তরে নিজেদেরই সম্মানিত করেছেন। সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও সৃজনশীল মানুষদের হাতে পুষ্পস্তবক, শাল, মানপত্র, স্মারক, বই, কফি কাপ, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি দেওয়ার মধ্যে ছিল আন্তরিকতার ছোঁয়া, ছিল প্রাণের আকুতি। এই অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছিল গুণীজন ও দর্শকদের মাঝে যা প্রকাশ পেয়েছিল জোরালো হর্ষধ্বনি ও করতালির মাধ্যমে। সম্মানিত সাহিত্যিকরা তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান সময়ের সাহিত্য সম্পর্কে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

গুণীজন সংবর্ধনার মাঝে মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। 'শনিবারের আসর'-এর পরিচালিকা অমিয়া চক্রবর্তীর পরিকল্পনায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী তাদের অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। প্রথমে 'নিক্কন' নৃত্য গোষ্ঠী সম্মিলিত নৃত্য পরিবেশন করে। অংশগ্রহণে ছিলেন পল্লবী মুখার্জি, বর্ণালী বনিক, স্বাতী রায়, চৈতালি সিনহা। এরপর 'খোয়াই' আবৃত্তি, পাঠ, নাচ ও গানের মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান নিবেদন করে। শিল্পীরা ছিলেন নীলাব্জা চ্যাটার্জী, চন্দনা বাসু, সমন্বিতা দাস,‌ সুস্মিতা চ্যাটার্জী ও অমিয়া চক্রবর্তী। ইন্দিরা বন্দোপাধ্যায়ের পরিচালনায় 'আনন্দম' গোষ্ঠী পরিশীলিত সংঙ্গীত সন্ধ্যা পরিবেশন করে। সঙ্গী শিল্পীরা হলেন রীতা বোস, স্বর্ণালী ভট্টাচার্য, শ্বেতা ঘোষ ও শিউলি আদিত্য।

সাহিত্যিক দ্বিজরাজ সান্যালকে সম্বর্ধনা দেওয়ার পরে মঞ্চে আসে 'প্যাশন' গ্রুপ। চৈতি রায়ের নেতৃত্বে সম্মিলিত গান পরিবেশিত হয়। শিল্পীরা ছিলেন চৈতি রায়, কুহু গাঙ্গুলী ও শুক্লা বোস। 'নতুন দিশারী' শ্রুতি নাটক, গান ও নাচের মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান নিবেদন করে। শিল্পীরা হলেন সঞ্জনা শীল, পার্থপ্রতিম শীল, মল্লিকা বড়াল, শুভদীপ চক্রবর্তী, রাজদীপ বসাক ও নৃত্যে সুচিস্মিতা সাহা। শ্রুতি নাটক গোষ্ঠী 'সংলাপ' তাদের নাটক পরিবেশন করে। শিল্পীরা হলেন কল্লোল ঘোষ ও নীতা বনিক। এছাড়া একক সঙ্গীতে ছিলেন তপন ধর, আবৃত্তিতে ছিলেন ইলা রায় ও শুভময় মুখোপাধ্যায়। প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংস্থাকে এবং একক অনুষ্ঠানের শিল্পীদের উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান দর্শক মনে গভীর রেখাপাত করে। 'কোলকাতা টিভি'র সাংবাদিক দেবোপম সরকার আরও সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। পত্রিকার সহসম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। হলের বাইরে সকলের জন্য চা, সিঙ্গারার ব্যবস্থা থাকে।


  • 'প্রজ্বলন' সংস্থার অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা - সর্বাণী ঘড়াইঃ গত ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ 'প্রজ্বলন' আয়োজিত আলোচনা, গল্প, সঙ্গীত ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান হয়ে গেল চিত্রবানীতে। এই অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বের লেখক দেবাশীষ দাসের গল্প নিয়ে আলোচনা করেন সাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্য। "সৌখিন শিল্প সৃষ্টি নাকি, বাস্তবকে তুলে ধরা - কোন দিকে এগোচ্ছে ছোটগল্প" - এই নিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সুকুমার রুজ। এই পর্বটির সঞ্চালনায় ছিলেন স্বর্ণালী মন্ডল।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল স্বর্ণালী মন্ডলের কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ। কাব্যগ্রন্থ 'মৃত্যু নদীর বিরতি' নিয়ে আলোচনা করেন সুনীল মাজি, ভবেশ বসু। কবিতা চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন, এই পর্বের সঞ্চালক অরূপ পান্তী।

তৃতীয় পর্বের আলোচনাটি ছিল "লিটিল ম্যাগাজিনের অতীত ও বর্তমান ধারাবাহিকতা"। আলোচনায় ছিলেন কবি সত্যপ্রিয় মুখোপাধ্যায় এবং কবি পর্যন্ত রাহা। এই পর্যায়ের সঞ্চালক ছিলেন স্বর্ণালী মন্ডল।

সুন্দর পরিবেশ ও সুসজ্জিত হলে কবিতাপাঠ করেন বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়, অলক দাশগুপ্ত, রাখহরি পাল, অয়ন বিশ্বাস, অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, পিনাকী রায়, কেতকি প্রসাদ রায়, সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু পালিত, অজয় বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, রমেশ কর্মকার, হরিসাধন চন্দ প্রমুখ। আবৃত্তিতে ছিলেন অলকা মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা সরকার, নন্দিনী লাহা। গানে ছিলেন কাবেরী ঘোষ এবং জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়। সৃজনশীল সুন্দর অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই উপভোগ্য এবং প্রশংসার দাবি রাখে। একই সঙ্গে পুরো অনুষ্ঠানটি লাইভ টেলিকাস্টও করা হয়।